দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান
*১২তম দিনঃ
আলোচনা-প্রকৃত জীবন পরকালের জন্য থাকতে হবে প্রস্তুত।
মুসলমান বিশ্বাস করে-এ জীবন জীবন নয়, পারলৌকিক জীবনই প্রকৃত জীবন। যারা মনে করে। যে, পার্থিব-জীবনই সবকিছু এবং এই পার্থিব-জগতে আগমনের সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের জীবন আরম্ভ হয়েছে এবং মৃত্যুর সঙ্গে-সঙ্গে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাবে, তারা মস্তবড় ভুলের মধ্যে নিপতিত রয়েছে। প্রকৃতপ্রস্তাবে এই পার্থিব-জীবন আমাদের জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র, ইয়াওমে-আযলে যখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের রূহ সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই আমাদের জিন্দেগী শুরু হয়েছে। পার্থিব-জীবন খতম হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই আমাদের উখরোবী জিন্দেগী বা পারলৌকিক জীবন আরম্ভ হবে।
আল্লাহর সৃষ্টির রহস্যমহান আল্লাহ তায়ালা পরম মমতায় মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। যে বিষয় কুরআনুল করীমে সুবিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। আমাদের জন্ম, আমাদের সৃষ্টি রোযে-আযলে। সৃষ্টির পরঃ ০১. আলমে-আয়াহ বা আত্মার জগতে ছিলাম কাল-কালান্তর। ০২. আলমে-নাসূত বা পার্থিব-জগতে আত্মার জগত থেকে এসেছি সীমিত সময়ের জন্য। এখানে গর্ভকালীন জীবন অতিবাহিত করেছি, পার্থিব-জীবন لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ . (اعراف : ٣٤ সময় ফুরিয়ে গেলে এক মুহূর্তও দুনিয়ায়-এ জগতে থাকা যাবে না। কেয়ামতের দিনের সাথে তুলনা করলে সর্বোচ্চ দেড়-সেকেন্ডের মধ্যে ছাড়তে হবে আলমে নাসূত বা পার্থিব-জগত। অতঃপর মওত দিয়ে শুরু হবে অনন্তজীবন। বিশ্বে ধর্মের সংখ্যাবিশ্বের বুকে প্রায় সাড়ে-চারহাজার (৪,৫০০) ধর্ম রয়েছে। নাস্তিক-কাফের ব্যতীত বিশ্বের সকল মানুষ বলে-ওফাত দিয়ে জীবন শেষ নয়, শুরু হয় পরবর্তী জীবন: যাকে আমরা বলি পরকালীন জীবন বা আখেরাতের জিন্দেগী। ০৩. আলমে-আখেরাত বা পরজগতে থাকতে হবে অনন্তকাল। সেখানে অতিবাহিত করতে হবে-কবরের জীবন, হাশরের জীবন, অতঃপর নশরী জীবন অর্থাৎ দুনিয়ায় অবস্থানকালীন কৃতকর্মের ফলাফল ভোগের জন্য বেহেশত বা দোযখের জীবন। যা চলবে অনন্তকাল ধরে। বেহেশতী জীবনে মু'মিন তার স্রষ্টা আল্লা'র সান্নিধ্য লাভ করে হবে চিরধন্য। সুতরাংঃ যাদের গন্তব্য জান্নাত, আল্লাহ তায়ালাই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য, মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের জন্য মু'মিন সর্বকাজে, সর্বব্যাপারে, সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পার্থিব-জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। |
কিয়ামতের মাঠে নির্ধারিত হবে জীবন
কিয়ামতের মাঠে নির্ধারিত হবে জীবন জান্নাতের হবে, না জাহান্নামের। পাগল মাতাল নেশাগ্রন্থ-আপন ভুলে, পথিক ছেড়ে, পথ হারিয়ে, ঠিকানা ভুলে যেভাবে খেয়াঘাট, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্টে পড়ে থেকে বেওয়ারিশ লাশে পরিণত হয়ে অবশেষে কুকুর-শিয়ালের খাদ্য হয়, তেমনি অবিশ্বাসীরা আপন (আল্লাহকে) ভুলে পথিক ছেড়ে পথ হারিয়ে জান্নাতের ঠিকানা হারিয়ে অসহনীয় জাহান্নামের ইন্ধন হয়। জীবন হয় দুর্বিষহ। আমরা যদি দুনিয়ায় ১০০ বছরও বেঁচে থাকি মরতে একদিন হবেই হবে। কবর তো আর ১০০ বছরের। নয়, কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত হাজার-হাজার বছর কবরে অতিবাহিত করতে হবে। এখানেই শেষ নয় এরপর জীবনপথের মোহনা কিয়ামতের ময়দানে সমবেত হতে হবে। আর কিয়ামতের একটি দিন
দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান
হবে দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ الف شلة معارج 'কিয়ামতের দিনটি হবে দুনিয়ার ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) বছরের সমান।' অতএব, দুনিয়ায় ১০০ বছর বাঁচলেও কিয়ামতের দিনের তুলনায় দেড়/দুই সেকেন্ডের ঘাঁটি এ দুনিয়া।
আফসোস। বড়ই পরিতাপ তাদের জন্য যারা প্রকৃত জীবনকে অবহেলা করে উদাসীনতায়। গড্ডালিকা প্রবাহে, গা ভাসিয়ে ক্ষণস্থায়ী ঘাঁটি দুনিয়ার মদ ও মোহে মত্ত থেকে, অসহনীয় দুঃখ- যাতনার স্থান দোযখকে চিরস্থায়ী বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। একবারও কি ভেবে দেখেছি ঐ জাহান্নামের দুর্বিষহ শান্তি ১সেকেন্ডও সহ্য করার শক্তি আমাদের কারও আছে কি-না? দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী ঘাঁটিকে যারা পারলৌকিক অনন্ত জীবনের উপর প্রাধান্য দিয়েছে তাদের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেনঃ فَأَمَّا مَنْ طَغَى وَأَثَرَ الْحَيُوةَ الدُّنْيَا فَإِنَّ الْجَحِيمَ فِي الْمَأْوَى.
অর্থাৎ-যারা আল্লাহর নাফরমানী করে এবং জান্নাতের অনন্ত জীবনের ওপরে পার্থিব-জীবনকে প্রাধান্য দেয়, জাহান্নামই হবে তাদের বাসস্থান।
জীবনপথের পথিক, পরকালের যাত্রী ওহে। দুনিয়ার মদ ও মোহে মদ্যপ মাতাল নেশাগ্রস্থ হয়ে আপনকে (আল্লাহকে) ভুলো না, পথিকহারা হয়ো না, ঠিকানা হারিয়ো না, পথ ভুলে যেও না।
কেয়ামতের ভয়াবহ অবস্থা
জীবনপথের মোহনা কিয়ামতের দিনটি কিন্তু বড় ভয়াবহ। সেদিন মানুষগুলো যুবক আর যুবতী। আকারে সমবেত হবে। উলঙ্গ-বিবস্ত্র অবস্থায় উঠবে, কে যুবক আর কে যুবতী, উলঙ্গ কি বিবস্ত্র তা হুঁশ করার শক্তি কারো থাকবে না। মানুষ একটিমাত্র নেকীর সন্ধানে মা-বাবা, পুত্র-কন্যা, স্বজন-সঙ্গিনী কতজনের কাছে যাবে। কিন্তু সকলের কাছ থেকেই নিরাশ হয়ে ফিরে আসবে।
হাদীসের মর্মে অবগত হওয়া যায়, ফেরেশতারা জাহান্নামীদেরকে টেনে-হিঁচড়ে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। নারী-পুরুষ সকলেই তখন চিৎকার করে কাঁদতে থাকবে। ঈমান থাকা সত্বেও গুনাহের কারণে। যারা জাহান্নামী হবে, তারা বেঈমান, কাফের মোশরেকদের মত কালো চেহারা বিশিষ্ট হবে না, চোষ নীল বর্ণের হবে না। এ অবস্থায় তাদেরকে জাহান্নামের দরজার কাছে পৌঁছানোর পর প্রহরী মালিক।
ফেরেশতা বলবেন: এরা কারা? বড় অদ্ভুত মনে হচ্ছে এদেরকে। এদের চেহারা কালো নয়, চক্ষু নীল নয়। মালিক দারোগা।
নিজেই জিজ্ঞাসা করবেন: হে দুর্ভাগারা। তোমাদের পরিচয় কি? একটি বর্ণনায় আছে, এসব জাহান্নামীরা সারা পথ-ইয়া মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম। ইয়া মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম।। বলে চিৎকার করতে থাকবে। মালিক দারোগাকে দেখামাত্রই তারা হতবাক হয়ে যাবে। তারা যে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর উম্মত এ পরিচয় দিতেও ভুলে যাবে। বাকরুদ্ধ নিথর। দাঁড়িয়ে থাকবে, এক পর্যায়ে কেউ কেউ বলবে। আমরা সেইসব লোক, যাদের প্রতি পবিত্র কুরআন। অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাদেরকে রমযান মাসে রোযা রাখতে বলা হয়েছিল। দারোগা বলবেন, কুরআন শরীফ তো অবতীর্ণ হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর প্রতি। এ নাম শুনতেই তারা চিৎকার করে উঠবে-আমরা তো হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এরই উম্মত। দারোগা বলবেন: কুরআন কি তোমাদেরকে আল্লাহর অবাধ্য হতে বারণ করেনি?
যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দারোগার কাছে অবস্থান করানো হবে, তখন তারা। সকলেই মালিক দারোগার কাছে অনুরোধ করবে-আমাদেরকে আমাদের কৃত পাপের জন্য খানিকটা কাঁদতে দিন। অতঃপর কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি নিঃশেষ হয়ে যাবে। অশ্রুর বদলে প্রবাহিত হবে। রক্তের ধারা। তারা চরম নৈরাশ্যের সাথে বলবে: আহা, দুনিয়ায় বসে যদি মাওলাকে ডেকে ডেকে তাঁর প্রিয় হতে পারতাম। যদি কবীরা গুনাহ থেকে তওবার হুঁশ হতো!! এই কান্না যদি দুনিয়ায় বসে। কাঁদতাম তাহলে কতইনা লাভ হত!! জাহান্নামের আগুন তাদেরকে পাকড়াও করবে কিন্তু যেকের ও ঈমানের কারণে তাদের যবান ও দিল আগুন স্পর্শ করবে না। এভাবে তারা জাহান্নামের আগুনে পুড়তে থাকবে। এই দুর্বিষহ বিপদের মধ্যেও তাদের যবানে উচ্চারিত হবে-ইয়া আল্লাহু। ইয়া রহীমু। ইয়া রহমান।। ইয়া কইউমু! ইয়া হান্নানু। ইয়া মান্নান!! কত কোটি বছর এভাবে কেটে যাবে আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।
এক পর্যায়ে আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল আ.-কে বলবেন: তুমি উম্মতে মুহাম্মদীর খোঁজ নাও, তারা কেমন আছে? জিবরাঈল আ. ছুটে আসবেন মালিক দারোগার কাছে। দারোগা তখন। জাহান্নামের মধ্যবিন্দুতে একটি আগুনের মেম্বরে সমাসীন। জিবরাঈল আ. কে দেখতেই তিনি তার্থীমের সাথে উঠে দাঁড়াবেন এবং এখানে আগমনের কারণ জিজ্ঞেস করবেন। জিবরাঈল আ কাবেন: আমি উম্মাতে মুহাম্মদীর খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য এসেছি, তারা কেমন আছে? দারোগ
বলবেন: তাদের অবস্থা খুবই খারাপ, আগুন তাদের সমস্ত শরীর জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিয়েছে; তবে ঈমান ও যেকেরের কারণে অবশিষ্ট আছে শুধু তাদের চেহারা ও অন্তরগুলো।
হযরত জিবরাঈল আ.-কে দেখেই পাপীরা চিৎকার করে উঠবে। তারা বলে উঠবে: জিবরাঈল। আপনি গিয়ে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা একটু জানান, আমাদের পাপ আমাদেরকে তাঁর থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, আমাদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছে। হযরত জিবরাঈল আ. ফিরে আসবেন। আল্লাহ তা'য়ালার দরবারে সব ঘটনা খুলে বলবেন। আল্লাহ তা'য়ালা বলবেন: তারা তোমাকে কিছু বলেনি? জিবরাঈল বলবেন: বলেছে, মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর কাছে তাদের দুরাবস্থার কথা জানাতে বলেছে। নির্দেশ হবে: যাও, হাবীবকে অবহিত কর।
কিয়ামতের দিন কোনটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে
কেয়ামতের দিন সকল মানব জাতিকে একত্রিত অবস্থায় যখন উঠবে তখন যে যার আমল অনুযায়ী সে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং যে যা কিছু করেছিল সকল কিছুর সকল কৃতকর্মের যেদিন বর্ণনা দেওয়া হবে জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা যে যা করেছ সবার আমলনামা গুলো পেশ করো তখন সবাই তার আমলনামা পেশ করবে একটা পর্যায়ে পাপীরা আলাদা হয়ে যাবে এবং জান্নাতিরা আলাদা হয়ে যাবে যে যার গন্তব্যে যেতে না চাইলেও তখন নির্ধারিত ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাদেরকে গন্তব্য স্থানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে
জিবরাঈল আ. হযরত রসূলুল্লাহ সল্লল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর খেদমতে গিয়ে উপস্থিত হবেন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তখন বেহেশতের এমন একটি মহলে আরামরত থাকবেন যা শুভ্র- মোতির তৈরী: যাতে চার হাজার দরজা থাকবে, যে দরজা সোনা দিয়ে বাঁধানো। জিবরাঈল আ. সালাম বাদ আরয করবেন: ইয়া রসূলাল্লাহ! আপনার পাপী উম্মতদের কাছ থেকে এসেছি। তারা তাদের ধ্বংস ও দুর্দশার কথা আপনাকে জানাতে বলেছে। একথা শুনতেই উম্মতের দরদী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বেহেশতী আরাম ত্যাগ করে আরশের নিচে গিয়ে সেজদায় লুটিয়ে পড়বেন এবং অপূর্ব ভাব ও ভাষায় আল্লাহ তা'য়ালার প্রশংসা করবেন, উম্মতের মুক্তির জন্য দোয়া করতে থাকবেন। আল্লাহ তা'য়ালা আদেশ করবেন: মাথা তুলুন। চান, যা কিছু চাওয়ার আছে! যা চাইবেন তাই দেব। কারও সম্পর্কে সুপারিশ করলে কবুল করব।
রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আরয করবেন: ওগো প্রভু। আমার পাপী উম্মতের ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকরী হয়েছে, তাদের ওপর আপনার শান্তি নিপতিত হয়েছে। আমি তাদের জন্য সুপারিশ করছি, আপনি কবুল করুন। এক পর্যায়ে আদেশ করা হবে: আপনার সুপারিশ গ্রহণ করলাম। আপনি যান এবং যে ব্যক্তি কলেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করেছে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনুন। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম জাহান্নামের কাছে পৌছতেই তাঁর সম্মানার্থে দারোগা মালিক দাঁড়িয়ে যাবেন। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তাঁকে কাবেন: মালিক। আমার পাপী উম্মতেরা কেমন আছে? মালিক আরয করবেন: ইয়া রসূলাল্লাহ! কোটি কোটি বছর ধরে আগুনে পুড়ে-পুড়ে গুনাহগার উম্মতগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় নিপতিত রয়েছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলবেন: জাহান্নামের দরজা খুলে দাও। দরজা খুলে দেয়া হবে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকে দেখতেই পাপী উম্মতেরা এই বলে চিৎকার করে উঠবে: হে রসূল। আগুন আমাদের শরীর-কলিজা জ্বালিয়ে ফেলেছে। রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তাদেরকে জাহান্নাম থেকে
বের করে আনবেন। পোড়া কয়লা অঙ্গার মানুষগুলোকে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বেহেশতের দরজার কাছে অবস্থিত রিযওয়ান নামক নহরে গোসল করতে দেবেন। এখানে গোসল করতেই সকলে
আলোকজ্জ্বল যুবকে পরিণত হয়ে উঠবে। তাদের কপালে লেখা থাকবে الْجَهَنَّبِيُّونَ عُتَقَاءُ الرَّحْمَنِ কোন কেতাবে এসেছে- عتيق من النار এরা হল জাহান্নামী যারা আল্লাহ রহমানুর রহীম কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত।' কোটি কোটি বছরের দুর্বিষহ শান্তি ও আক্ষেপের জীবন অতিবাহিত করে যেকেরকারী
মুমিন, তওবাহীন কবীরা গুনাহগারেরা চিরমুক্তি পেয়ে হবেন জান্নাতী। অবশিষ্ট জাহান্নামীরা আক্ষেপ
করে বলবে, আহা। আমরাও যদি মুসলমান হতাম, তাহলে আজ অন্ততঃ জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি পেতাম। এ মর্মেই কুরআনে এরশাদ হয়েছে: ) رُبَّمَا يَوَةُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ (سورة الحجر অর্থাৎ-কত কাফের এই কামনা করবে, তারা যদি মুসলমান হত।' এভাবে চির-জাহান্নামীদের আক্ষেপ ও হতাশা চলবে অনন্তকাল ধরে-যা আর কখনো ফুরাবে না। হে আল্লাহ! আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
ওহে ঠিকানাহারা, পথভোলা। জান্নাতের ঠিকানায় পৌঁছতে হলে আওলিয়ায়ে কেরাম, তাবে- তাবেঈন, তাবেঈন, সাহাবা আযমাঈনের অনুসৃত পথে সিরাতে মুস্তাকীমে দৃঢ় থেকে রসূলের আদর্শে জীবন গড়ুন।
ReplyForward |

Nice
উত্তরমুছুন