Header Ads

Header ADS

বাংলা ইসলামিক ফ্রী বই



ইসলামিক বই

কুরআন শরীফ ও নামাজ শিক্ষা


 ইছলাহী পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ ও নামায শিক্ষা


‎‫بسم الله الرحمن الرحيمة‬‎

১ম অধ্যায়

নামায ও কুরআন শেখার আহ্বান এবং ৬টি মাসয়ালা

সম্মানিত ধর্মপ্রাণ ভাইয়েরা।

সঠিকভাবে নামায পড়া, নামাযের মুখস্ত বিষয়সমূহ বিশুদ্ধভাবে পড়তে পারা এবং সূরা- ক্বেরাত তথা কুরআন তেলাওয়াত কত যে সহজ বুঝতে পারলে আমরা কেহই তা শিখতে অবহেলা করতাম না। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-

‎‫وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآن الخ. (سورة القمر (১৭)‬‎

আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি সুতরাং আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের জন্য এ কুরআন শেখা সহজ। কুরআন যেমন শুনে শুনে শেখা যায়, নামায তেমন নামাযিদের সাথি হয়ে দেখে দেখে শেখা যায়।

রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন- صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أَصلى অর্থাৎ তোমরা নামায পড় সেভাবে যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-  وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاعِينَ (سورة البقرة (١٣)‎ রুকুকারীদের সাথী হও।

রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নামায যেমন ছিলো, আপনার নামায তেমন হোক, আপনার সূরা ক্বেরাত তথা কুরআন তেলাওয়াত এবং নামাযের মুখস্ত বিষয় সমূহ পঠন হোক বিশুদ্ধ। এ লক্ষে হযরত নেছারাবাদী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফোরকানিয়া বোর্ড নেছারাবাদ, ঝালকাঠি গ্রহণ করেছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রসংগত জরুরী কয়েকটি মাসয়ালা উল্লেখ করা প্রয়োজন।

৬টি মাসয়ালা

মাসয়ালা-১: নামায আদায় করতে কুরআন শরীফ যতটুকু মুখস্ত করতে হয় সে পরিমাণ ছহীহ শুদ্ধভাবে

মুখস্ত করা প্রত্যেকের ওপর ফরয। (ফতোয়ায়ে শামী)

মাসয়ালা-২: সকল ফোকাহা একমত, যাদের তেলাওয়াত অশুদ্ধ তাদের তেলাওয়াত শুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এমনকি প্রয়োজনে আজীবন চেষ্টা করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত চেষ্টা করতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তাদের নামায শুদ্ধ হবে। আর যখন চেষ্টা ছেড়ে দেবে তখন আর তাদের কোন নামায হবে না। এমনকি যতদিন তেলাওয়াত অশুদ্ধ থাকবে ততদিন পর্যন্ত তার পক্ষে ইমামতী জায়েয হবে না। 


(ফতোয়ায়ে শামী, আলমগীরী, হণীরী, কবিরী, ফতোয়ায়ে বাজ্জাজিয়া, ফতোয়ায়ে কাজীখান, ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া প্রভৃতি ফিকাহ গ্রন্থ)


মাসয়ালা-৩: ক্বেরাত শুদ্ধের চেষ্টা ত্যাগকারীগণ দুনিয়াতে তিন শ্রেণীর। ১. ইচ্ছাপূর্বক চেষ্টা হতে বিরত থাকা। ২. গাফেল উদাসীন। ৩. পূর্ণ চেষ্টার পরেও অক্ষম হওয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী সম্বন্ধে ওলামায়ে মোতাকাদ্দেমীন ও ওলামায়ে মোতায়াখেরীনের কেউ তাদের নামায শুদ্ধ। হবে বলে এযাযত দেন না। তবে হ্যাঁ-তৃতীয় শ্রেণী যারা চেষ্টার পরেও অক্ষম হয়ে গেছেন। তাদের সম্বন্ধে মোতায়াখেরীনের থেকে কেউ কেউ নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযর সাব্যস্ত করেছেন, কাজেই তারা মায়ুর এবং মায়ূরের মাসয়ালা হল এই যে, যে ব্যক্তি এক হরফ বা এক কালিমার মাথুর তার নামায দুই হরফ বা দুই কালিমার মায়ূরের পিছনে নামাযের একতেদা জায়েয হবে না। (ফতোয়ায়ে শামী। ১ম খণ্ড)


কাজেই প্রত্যেক মুছল্লীর নিজ নিজ ওযরমুক্ত হরফ জেনে নেওয়া যেরূপ একান্ত কর্তব্য তদ্রূপ যাদের সঙ্গে প্রায়ই জামাতে নামায পড়ে থাকেন সে সকল মুছল্লীগণকেও ঐ ওযরের কথা জানিয়ে দেওয়া একান্ত কর্তব্য।

মাসয়ালা-৪: যদি কাউকে পবিত্র কুরআন মজীদের ভেতর বড় বড় ভুল (পূর্ণ র্প) পড়তে শুনা যায় তাহলে তাকে অবহিত করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি এরূপ একটা প্রবল ধারণা হয় যে অবহিত করতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি হবে তাহলে এড়িয়ে যাওয়া জায়েয।


(কারী খান। ১ম খণ্ড এবং কিতাবুত্ব তিনইয়ান ফী আসবে হামলাতিল কুরআন)

মাসয়ালা-৫: পবিত্র কুরআন শরীফ ছাময়ী ও লুফুফী তথা শ্রবণ ও ঠোঁটের এলেম। অর্থাৎ কোন নির্ভরযোগ্য তেলাওয়াতকারীর উচ্চারণ-ভঙ্গি দেখে দেখে এবং শুনে শুনে শেখার বিষয়। কারো ক্ষমতা নেই যে, উচ্চারণ-ভঙ্গি দর্শন, শ্রবণ, মশক ও তেলাওয়াত ব্যতীত সঠিকভাবে কুরআন পড়তে পারে; যেমন কারো ক্ষমতা নেই যে, পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা- প্রসূত জ্ঞান দ্বারা (অবিকল নকল ব্যতীত) ইচ্ছামত কুরআনের তাফসীর করতে পারে। এই কারণে নির্ভরযোগ্য ওস্তাদের মৌখিক অনুমতি নেওয়া ব্যতীত পবিত্র কুরআন পড়া অপরাধ, যদিও পড়া সঠিকভাবে হয়ে থাকে। (শরবে যুক্তগদ্যমায়ে জাজরিয়। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ‎‫مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَائِهِ فَقَدْ أَخْطَأْ وَإِنْ أَصَابَ الرملي 1-GPS 4 RC‬‎ যারা নিজ ইচ্ছামত কুরআন শরীফ বলে (তেলাওয়াত করে) তাদের বলা শুদ্ধ হলেও অপরাধ।


ক্বেরাত অশুদ্ধ হলে অপরাধ হবে আর ক্বেরাত শুদ্ধ হলে অপরাধ হবে না, হাদীসের ভাষ্য এমন নয় বরং ওস্তাদ থেকে ক্বেরাত অর্জন না করে নিজ ইচ্ছামত ক্বেরাত পড়া যে অপরাধ। হাদীসে তাই ঘোষিত হয়েছে।

মাসয়ালা-৬: নামায যেমন ফরয, নামায আদায় হয় এতটুকু কুরআন তাজভীদসহ মুখস্ত করাও ফরয, তা কুরআন-হাদীসের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি শুদ্ধ তেলাওয়াতের ফরযিয়াতকে এনকার করে সে কাফের, সে ভীষণ ক্ষতির মধ্যে নিপতিত।


(আল্লামা কালানবী রহ.)


আপনি বয়ো-বৃদ্ধ কিংবা জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত অথবা মহাব্যস্ত, প্রচুর সময় দিতে পারছেন না কোন সমস্যা নয়: মাত্র ২৫ দিন ১ ঘন্টা করে সময় দিন, সঠিকভাবে নামায আদায় এবং বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত শিক্ষা করা খুবই সহজ। আপনাদের খেদমতে আমরা থাকব- إِنْ شَاء الله‎

পরিশেষে সময় ও তারিখ নির্ধারণ করে নেবেন।

মুয়াল্লিম নির্দেশিকা ও রুটিন

ইছলাহী পদ্ধতি


একজন মুয়াল্লিম মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের জন্য যে নির্দেশিকা ও রুটিন মেনে চললে শিক্ষার্থী সঠিকভাবে নামায, বিশুদ্ধভাবে ক্বেরাত শিক্ষা গ্রহণ এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ জানতে সক্ষম হবে, তারই ধারাবাহিকতায় এই রুটিন প্রণয়ন করা হয়েছে। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে তা উপস্থাপন কর হলো:-

৩০ দিনব্যাপী তাদরীবুল কুরআন কোর্সের দৈনন্দিন রুটিন: কার্যদিবস ২৫ দিন

*১ম দিনঃ

১. উদ্বোধনী আলোচনা: কুরআন শিক্ষার আবশ্যকতা শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।

২. কাইফিয়াতে সালাত ১ম থেকে শেষ পর্যন্ত।

৩. মশক: তাওজীহ ও ছানা।

৪. দোয়া-মুনাজাত।

* ২য় দিনঃ

১. আলোচনাঃ কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে নামায পড়তে প্রয়োজন যোগসূত্র।

২. কাইফিয়াতে সালাত: দাঁড়ানোর প্রশিক্ষণ।

৩. মশক: সূরায়ে ফাতেহা।

৪. হুরুফ মশকঃ  ا ب ت ث - ৪টি।

৫. মাসয়ালা: নামাযে ফরয ১৩টি।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

* ৩য় দিনঃ

১. আলোচনা : যোগসূত্র হারালে বিরোধ-সংঘাত অনিবার্য।

২. কাইফিয়াতে সালাত: রুকুর প্রশিক্ষণ।

৩. মঞ্চ: সূরায়ে এখলাছ।

৪. হুরুফ মশকঃ ج ح خ টি।

৫. মাসয়ালা: নামাযের ওয়াজিব সমূহের বর্ণনা।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

*৪র্থ দিনঃ

১. আলোচনাঃ সাবধান। যোগসূত্রহীন মুসলমান ইসলামের বিকৃতি ঘটায়।

২. কাইফিয়াতে সালাত। সেজদার প্রশিক্ষণ।

৩. মশক: সূরায়ে কাওছার।

৪. হুরুফ মশকঃ دذرز - ৪টি।

৫. মাসয়ালা: নামাযের ওয়াজিব সমূহের পুনঃআলোচনা।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

*৫ম দিনঃ

১. আলোচনা ঃ যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সিরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হওয়ায় ইত্তেবায়ে সুন্নাহ পারে না, ফলে ইসলাম হারায়।

২. কাইফিয়াতে সালাত: বৈঠকের প্রশিক্ষণ।

৩. মশকঃ তাশাহুদ  التَّجِيَّاث

৪. হুরুফমশকঃ  : س ش - ২টি।

৫. মাসয়ালা: নামাযের সুন্নত সমূহের বর্ণনা।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

* ৬ষ্ঠ দিনঃ

১. আলোচনা: রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, এ জীবন জীবন নয়।

কাইফিয়াতে সালাত: সালাম ফিরানো ও মুনাজাত।

৩. মশকঃ দরূদ শরীফ।

৪. হুরুফ মশক:  - ৪ টি ص ض ط ظ    

৫. মাসয়ালা: এক নজরে নামাযের সুন্নত।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

*৭ম দিনঃ

১. আলোচনা: পথিক ধরে নামায পড়ুন, পথিক ছাড়লে পথ হারালে জাহান্নাম।

২. কাইফিয়াতে সালাত: পরীক্ষা গ্রহণ।

৩. মল্ক: দোয়ায়ে মাছুরাহ।

৪. হুরুফ মশকঃ - ع غ ২টি।

৫. মাসয়ালা : নামায ভঙ্গের কারণ।

৬. দোয়া-মুনাজাত।

*৮ম দিনঃ


১. আলোচনাঃ নামায পড়ুন, তেলাওয়াত করুন, যোগসূত্র রেখে প্রতি নামাযের প্রতি রাকাতে ‎‫اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ الْعَمْتَ عَلَيْهِمْ - -মনে প্রাণে দোয়া করুন 

১২টি আলোচনাঃ- 


*১ম দিন-


আলোচনা-  কুরআন শিক্ষার আবশ্যকতা, শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।


আল্লাহ তা'য়ালা এরশাদ করেন :وريَّلِ القُرآن ترتيلا (سورة المزمل ছহীহ-শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে কুরআন শরীফ পাঠ করুন। ছহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করা ফরয। যে ব্যক্তি তাজভীদের সাথে কুরআন শরীফ পাঠ করে না, সে পাপী গুনাহগার। (ইমাম ইবনুল জবরী হয়।

রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন- ধর্মে; خَيْرٌ كُمْ مَنْ تَعْلَمَ الْقُرْآنَ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু

আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন:

‎‫مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرٍ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الْمَ حَرْفٌ وَلَفٌ أَقُولُ الْمَ حَرْفٌ وَلْفٌ فٌ‬‎

‎‫وَمِيمٌ حَرْفٌ رواه الله ملوان‬‎ অর্থাৎঃ যে আল্লাহ তায়ালার কিতাব কুরআন শরীফ থেকে একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকী

পাবে এবং প্রত্যেকটি নেকী দশটি নেকীর সমান হবে। আমি বলি না যে, মে। একটি হরফ বরং ওয়া

একটি হরফ, ১১ একটি হরফ এবং একটি হরফ। (তিরমিযী শরীফ)

বসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন:

‎‫مَنْ قرأ الْقُرْآنَ فلْرَ فلّ حلّالَ ُرّمَ حرَمَ أرَامَ االل االل االل االل االل االل االل ارةٍامَ ِ ইঞ্জিন ألِ بَتِِ‬‎

‎‫كُلُّهُمْ قَدْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ - الرواة القرمون‬‎

অর্থাৎ: যে কুরআন শরীফ পাঠ করবে এবং তার হালালকে হালাল জেনে এবং হারামকে হারাম জেনে তদনুযায়ী আমল করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন এবং তাঁর বংশের এমন দশজন লোকের জন্য সুপারিশ কবুল করবেন: যারা দোযখের জন্য উপযুক্ত হয়েছিল। (তিরমিজী শরীফ)

রসূলুল্লাহু অসাল্লাম এরদঃ مَنْ قَرَأُ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ‎ ‎‫الْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ ِ فَمَا قَنَّكُمْ‬‎

‎‫بِالَّذِي عَمِلَ بِهَذَا - و او)‬‎

অর্থাৎঃ যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পাঠ করবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে, তার মাতাপিতাকে

কিয়ামতের দিন এমন একটি উজ্জ্বল তাজ পরিধান করানো হবে যার উজ্জ্বলতা সূর্যের উজ্জ্বলতার চেয়েও অধিক হবে। কুরআন শরীফ পাঠকারী ও তদনুযায়ী আমলকারীর মর্যাদা কত উচ্চ হবে তোমরা ভেবে দেখ। (আবু দাউদ শরীফ)

পবিত্র কুরআন মজীদ শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে কুরআন হল  (লুফুফী) যা মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে উচ্চারণের ভঙ্গি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

অপর হাদীসে এসেছে কুরআন মজীদ (ছাময়ী) যা কানে শুনে শ্রবণ করার মাধ্যমে শিখতে হবে। কারণ এ কুরআন মনগড়া পড়লে গুনাহগার হতে হবে। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেনঃ

‎‫(1) مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِوَائِهِ فَقَدْ أَخْطَأَوَ إِنْ أَصَابَ الومني‬‎

‎‫(۲) وَفِي رِوَايَةٍ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَائِهِ وَأَصَابَ فَقَدْ أَخْطا درمدي‬‎ যেভাবে যোগসূত্র ছাড়া ঈমান ইসলামের দাবিদার হওয়া যায় না অনুরূপ কারো ক্ষমতা নেই শুনা ব্যতীত সঠিক উচ্চারণে কুরআন পড়তে পারা। তাই কুরআন শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।

*২য় দিনঃ

আলোচনা-কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে নামায পড়তে প্রয়োজন যোগসূত্র ৪-

at of ance m وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ (سورة البقرة (١٣) TE TO C হয়ে। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أصلى অর্থাৎ তোমরা নামায পড় সেভাবে যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো। নবীজীকে দেখে সাহাবায়ে কেরাম, তাদের দেখে তাবেঈন, তাবেঈনদের দেখে তাবে-তাবেঈন, এভাবে অদ্য পর্যন্ত যাদের নামায নবীজী পর্যন্ত যোগসূত্র ধরে হবে সেই নামাযই সঠিক নামায। পুঁথিগত বিদ্যা নির্ভর নামায ও যোগসূত্রহীন নামায যথাযথ হওয়ার নিশ্চয়তা কে দেবে? এমন নামায হয় বাড়াবাড়ি নয় ছাড়াছাড়ি (ইফরাত, তাফরীত) হবেই হবে। একইভাবে নামাযের অন্যতম বিষয় হল ক্বেরাত পাঠ যথেচ্ছা ক্বেরাত পাঠ করলে হবে না; তা হতে হবে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সাত ক্বারীর সাথে যোগসূত্র রেখে। সাত ক্বারীর সাথে যোগসূত্রহীন ক্বেরাত যেমন গ্রহণযোগ্য নয় তেমনি যোগসূত্রহীন নামাযও। মনগড়া এবাদতে পরিণত হয় বলে মাওলার কাছে অগ্রহনীয়। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেনঃ ‎‫زَيْنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ অর্থাৎ তোমরা তোমাদের সুমিষ্ট সুর দ্বারা কুরআন সু-সজ্জিত কর, অপর‬‎ বর্ণনায় এসেছে : رَبَّ قَارِي لِلْقُرْآنِ وَالْقُرْآنُ يَلْعَنْهُ কুরআন পাঠকদের মধ্যে অনেকের অবস্থা এই যে, তাজভীদের বিপরীত পড়ার কারণে কুরআন তাদের প্রতি লা'নত করে, ধৈর্যের সাথে চেষ্টাকারী ان شاء‎ ‎‫لله। গ্রহণযোগ্য নামায ও তেলাওয়াতের অনুশীলন করে পার পেয়ে যাবে পরকালে।‬‎

*৩য় দিনঃ


আলোচনা-যোগসূত্র হারালে, বিরোধ সংঘাত অনিবার্য।


আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ

(১) أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ سورة النساء (৫২)

(২) الْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ (سورة الالاء ١٩)‎

আয়াতদ্বয় থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন ও আওলিয়ায়ে কেরাম তথা আহলে সুন্নত অল-জামায়াতের অনুসৃত পথে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর আদর্শ রীতি-নীতি অনুকরণ করা ব্যতিরেকে ইসলামের অনুসারী হওয়া যায় না। যোগসূত্রহীন ব্যক্তি যদি পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা-প্রসূত জ্ঞান দিয়ে কুরআন-সুন্নাহ বুঝাতে চায় তা ইসলামের নামে মনগড়া উক্তিতে পরিণত হয়।

এই শ্রেণীর লোকেরা তাদের মনগড়া ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণাকে কুরআন-হাদীস দিয়ে সঠিক সাব্যস্ত করতে গিয়ে ওলামা-মাশায়েখ, আওলিয়ায়ে কেরাম সলফে-সালেহীনের অনুসৃত পথকে ভুল ধারণা। করে এবং বিরোধ ও সংঘাতে লিপ্ত হয়। যখন আমরা আল্লাহ তা'য়ালার মনোনীত তার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও ওলী বা তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈন-এর সাথে যোগসূত্র হারাই তখন বিরোধ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। উদাহরণ স্বরূপ, কোন বস্তু প্রদর্শন করে যদি দর্শকের কাছে জানতে চাওয়া হয় এর ওজন কত তাহলে পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা দিয়ে এক একজনে এক এক ধরনের মত দেবে এটাই স্বাভাবিক, মতবিরোধের এক পর্যায়ে নিজস্ব মতকে প্রতিষ্ঠা করতে বাহুবল, পেশীশক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হবে। তবে যদি সরকার-স্বীকৃত মানদণ্ড, বাটখাড়া দিয়ে বস্তুটির সঠিক পরিমাপ নির্ণয় করা হয়, তখন বিশ্বের কোথাও মতবিরোধের সুযোগ থাকে না। কে কে মত প্রকাশে কতটুকু ইফরাত-তাফরীত বা বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি করেছে তা সুস্পষ্ট হওয়ায়। সঠিক মতের অনুসারীদের স্বীয় বিশ্বাসে দৃঢ় থাকা সহজ হয়। আল্লাহ যাদের প্রতি সহায় হন তাদের জন্য দ্বীনের প্রতিটি কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়ে যায়।

*৪র্থ দিনঃ

আলোচনা-সাবধান। যোগসূত্রহীন মুসলমান ইসলামের বিকৃতি ঘটায়।

বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার বাতিল ফের্কার আবির্ভাব হয়েছে। এসব বাতিল বেদয়াতীরা সলফে- সালেহীন, আওলিয়ায়ে কেরাম তথা আহলে সুন্নত অল-জামায়াতের অনুসৃত পথ বর্জন করার ফলে ইসলামের সঠিকপথ হারিয়ে ফেলেছে, ফলে ইসলামের নাম নিয়ে তারা হয় বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি, ইফরাত বা তাফরীতপন্থী হচ্ছে। তাদের দ্বারা দ্বীন রক্ষার পরিবর্তে জোরেশোরে তাহরীফে দ্বীন অর্থাৎ দ্বীনের বিকৃতি সাধন ঘটছে।

এই তাহরীফে দ্বীন ২ প্রকার-যথাঃ



১। তাহরীফে লফযী )تخرین لفظ( তথা কুরআন-হাদীসের শব্দ পরিবর্তন, এটা নিঃসন্দেহে কুফরী।

২। তাহরীফে মা'নবী )تحریک مغلوی( তথা কুরআন-হাদীসের ভাবগত পরিবর্তন ঘটানো অর্থাৎ কুরআন-হাদীস পড়বে ও শাব্দিক তরজমা (অনুবাদ) করবে ঠিক তবে এর দ্বারা যা বুঝাবে তা হবে মনগড়া উক্তি। এ ধরনের তাহরীফের (পরিবর্তনের) কারণে আহলে সুন্নত অল-জামায়াত থেকে খারিজ হতে হয় এবং হাদীসে বর্ণিত বাতিল ফের্কায় পরিগণিত হয়ে জাহান্নামী হতে হয়। খারেজী, মুতাজেলা, বর্তমান যমানার ওহাবী, কাদিয়ানী, বাহায়ী বা এ ধরনের আকীদা পোষণকারীরা সকলেই দাবি করে যে, তাদের মতাদর্শ কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে সাহাবায়ে এজাম, সলফে সালেহীন আওলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত পথে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর আদর্শে
জীবন গড়ার জন্য যে যোগসূত্র প্রয়োজন তা না থাকার কারণ তারা কুরআন-হাদীস দিয়ে যা বলে তা হয় তাহরীফে মানবী, মনগড়া উক্তি। উদাহরণ স্বরূপ পথভ্রষ্ট খারেজীদের কথাই ধরুন, রসূলে কারীম স্যাল্লাহ আলাইহি অসাল্লাম এর এস্কেকালের ৩০ বছর যেতে না যেতে খারেজীরা কুরআন-হাদীসের দলীল দিয়ে যে অভিনব আকীদা সমাজে ছড়ালো তা তাদের পূর্বে কেউ বলেনি।

পথভ্রান্ত মুতাযিলারা যা বলল-রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর এন্তেকালের পর তাদের পূর্বে ১০০ বছরের মধ্যে কেউ বলেনি। এভাবে অন্যান্য বাতিল ফের্কা এবং নামে-বেনামে তাদের আকীদা পোষণকারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। হে আল্লাহ। আপনি আমাদেরকে সিরাতে মুস্তাকীম এর ওপর পরিচালিত করুন।

*৫ম দিনঃ

আলোচনা-যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সীরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হওয়ায় ইত্তেবায়ে সুন্নাহ পারেনা, ফলে

ইসলাম হারায়।

যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সীরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হয় বিধায় তার নামায-রোযা বেশভূষা সবই থাকে তবে তা এত্তেবায়ে সুন্নাহ না হয়ে এত্তেবায়ে হাওয়া বা প্রবৃত্তির অনুকরণ হয়। ফলে ইসলাম হারায়।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হুজুরে পুরনূর। সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম একটি সরলরেখা টানলেন এবং এরশাদ করলেন, 'এটা আল্লাহর রাস্তা।' অতঃপর তিনি সরলরেখাটির ডানে ও বামে কতগুলো রেখা টানলেন এবং এরশাদ করলেন, 'এগুলো (বাতিল ফের্কাসমূহের) বিভিন্ন পথ। এ পথসমূহের প্রত্যেকটি পথে শয়তান উপবিষ্ট রয়েছে এবং মানুষযদিগকে ঐ ভান্ত পথের দিকে আহ্বান করছে।' আহমদ, নাসায়ী ও দারেমী।

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহ. মেরকাত শরীফে উল্লেখ করেনঃ-উক্ত হাদীসের দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হল যে, আল্লাহর রাস্তা সিরাতে মুস্তাকীম বা মধ্যপন্থা; এতে ইফরাত ও তাফরীত অর্থাৎ চরম আদর্শবাদ ও শিথিল মতবাদের গুঞ্জায়েশ নাই বরং এতে তাওহীদ (একত্ববাদ) এন্তেকামাত (দৃঢ়তার সাথে মধ্যপন্থা অবলম্বন) এবং ইফরাত ও তাফরীত-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের নিখুঁত ব্যবস্থা রয়েছে। পক্ষান্তরে বাতিল ফের্কাসমূহের পন্থায় নিছক ইফরাত অথবা নিছক তাফরীত বিদ্যমান রয়েছে।

কোনকিছু সঠিক বেঠিক বুঝতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দৃষ্টান্ত, মানদণ্ড। তাইতো আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তার প্রিয়ভাজন মানুষ কেমন হবে তার দৃষ্টান্ত হিসাবে নবীদেরকে। পাঠালেন। নবীজীর নমুনায় যারা জীবন গড়লেন সেই সাহাবায়ে কেরাম হলেন নবীজীর অবর্তমানে ইসলামের দৃষ্টান্ত। সাহাবায়ে এযামের অবর্তমানে তাবেঈনে কেরাম, তাবেঈনে কেরামের অবর্তমানে তাবে-তাবেঈন, এভাবে যতদিন আওলিয়ায়ে কেরামের এ ধারা থাকবে-ততদিন ইসলাম থাকবে। এ কারণে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত

হাদীসের ব্যাখ্যায় মেরকাত শরীফে এসেছে।
‎‫رَيْبَ أَنَّهُمْ هُمْ أَهْلُ السُّلَةِ وَالْجَمَاعَةِ.‬‎ ‎‫فَلَا شَكَ وَلا‬‎

অর্থাৎ-এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, উপরোক্ত হাদীসে উল্লেখিত নাজী ও বেহেশতী ফের্কা হল-আহলে সুন্নত অল-জামায়াত।

আওলিয়ায়ে কেরাম, তাবে-তাবেঈন, তাবেঈন, সাহাবায়ে এযাম এবং তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈনদের অনুসৃত পথে যারা চলবে তারাই এত্তেবায়ে সুন্নাহ তথা রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর জীবন-আদর্শে প্রকৃত ইসলামের অধিকারী হবে।

*৬ষ্ঠ দিনঃ

আলোচনা-রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, এ জীবন জীবন নয়।

এ জীবন জীবন নয়। পারলৌকিক জীবনই প্রকৃত জীবন। যারা মনে করে পার্থিব- জীবনই সবকিছু, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ হয়ে যাবে। তারা মস্তবড় ভুলের মধ্যে আছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান:

‎‫وَمَا هُذِهِ الْحَيُوةُ الدُّنْيا إِلَّا لَهُمْ وَلَعِبٌ وَإِنَّ الدار الآخرة لهي الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ . المليون )‬‎ দুনিয়ায় চলাচলের ব্যাপারে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নির্দেশনাঃ

‎‫كُنْ فِي الدُّنْيَا كَانَكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ وَعَنْ نَفْسَكَ فِي أَهْلِ الْقُبُورِ.‬‎ মূলতঃ একজন প্রকৃত ঈমানদার কখনো দুনিয়াকে প্রাধান্য দিতে পারে না। কারণ তারা মনে-

প্রাণে বিশ্বাস করে-এ জীবন জীবন নয়, এ জীবন ক্ষণস্থায়ী; পারলৌকিক জীবনই চিরস্থায়ী। পার্থিব এ জীবন তো মাত্র ক'দিনের। এখন জীবন আছে, সুস্থতা আছে, পরকালের জন্য হাশরের জন্য এখনই কিছু করে নাও। একদিন এমন সময় আসবে যখন এই সময়ের মূল্য বুঝে আসবে: তবে কোন ফল হবে না। মৃত্যুর পর কবরে গিয়ে আর কিছুই করতে পারবে না। কবর তো এমনই ভয়াবহ স্থান, মৃতপাপী-কফীন বহনকারীদেরকে এই বলে চিৎকার করতে থাকে 'তোমরা যদি আমার গন্তব্যের কথা জানতে তাহলে আদৌ আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে না।' কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত হাজার-হাজার বছর ঐ কবরে কাটাতে হবে। একবার মাত্র কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে চাইবে, তাও অনুমতি পাবে না। এই পার্থিব জীবন হলো মূলধনের মত। যার মূলধন আছে সে সবই পারে। কিন্তু মূলধন ফুরিয়ে যাওয়ার পর আর ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং হে নির্বোধ অলস মানুষ। এখনও সময় আছে রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, যা অর্জন করার করে নিন। নবীজির সুন্নত-ই বেহেশত লাভের একমাত্র উপায়।


*৭ম দিনঃ

আলোচনা-পথিক ধরে নামায পড়ুন, পথিক ছাড়লে পথ হারালে জাহান্নাম।


রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন-- صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُون أصلي‎

অর্থাৎ- নামায পড় সেভাবে, যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো।

আমরা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নামায দেখিনি, দেখেছেন সাহাবায়ে কেরাম। তাদের অনুসরণ করেছেন তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সলফে সালেহীন, আয়েম্মায়ে মুজতাহিদীন,
আয়েম্মায়ে তরীকত ও আওলিয়ায়ে কেরাম। অতএব, তাদের কারো অনুসরণ করে সেই নামায় শিখে নিতে হবে।

এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ارْ كَعُوا مَعَ الرَّكِعِينَ - سورة; রুকু-সেজদা তথা সঠিক নামায পড়তে হলে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, এই পথের পথিক নামাযীদের সাথী হও।

লক্ষ লক্ষ বছর আত্মার জগত অতিবাহিত করেছি। এখন ক্ষণিকের এই পার্থিব জগত অতিক্রম করে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত কবর-জগতে থাকতে হবে। এরপর জীবনপথের মোহনা কিয়ামতের ময়দানে সমবেত হতে হবে। ইউটিউব, ফেইসবুক, পুঁথিগত বিদ্যার গৌরব ও আত্মগরিমায় যদি পথিক ধরার আবশ্যকতা উপেক্ষা করি তাহলে পথিকহারা পথ-ভোলার জাহান্নাম ছাড়া গত্যান্তর থাকবে না

৮ম দিনঃ

ইছলামী পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ ও নামায


আলোচনা-নামায পড়ুন, তেলাওয়াত করুন যোগসূত্র রেখে।

নামায পড়ুন, তেলাওয়াত করুন যোগসূত্র রেখে। প্রতি নামাযের প্রতি রাকাতে মনে-প্রাণে দোয়া

‎‫هْدِنَا الصِّرَاةِ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِيْنَ الْعَمْتَ عَلَيْهِمْ جم! আমাদেরকে নামাযের মাধ্যমে‬‎

অদ্ভুত ৩২ বার আল্লাহর কাছে বলতে হয়- اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَ আয় খোদা, আমাদেরকে।
                                                                     
সিরাতে মুস্তাকীমে পরিচালিত করুন। আবার বলছি- صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ চলতে গিয়ে পথ না হাতাই, এ পথের পথিক যারা তাদের কাফেলার কারো সাথী আমাকে করে দিন। সুতরাং আল্লাহ

তায়ালা এ পথের পথিকদের পরিচয় দিয়ে সুরা নিসার ৬৯নং আয়াতে এরশাদ করেনঃ العم الله‎

‎‫- عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَد او والضحين‬‎

মুসলিমগণ চার শ্রেণীতে বিভক্তর-১. নবী-রসূলগণ, ২. সিদ্দীকগণ, ৩. শহীদগণ ও ৪. সালেহগণ।' কাজেই আম্বিয়ায়ে কেরাম, সাহাবায়ে এযাম, আয়েম্মায়ে মুজতাহেদীন, আওলিয়ায়ে কেরাম ও মুজাদ্দেদীন এবং তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈন সকলেই অনুকরণীয়-অনুসরণীয় ইসলামের সঠিক অনুসারী কামেল মুসলিম। অতএব নামায, তেলাওয়াত সব ব্যাপারেই কামেল মুসলিমের অনুসরণ করার জন্য। যোগসূত্র রক্ষা করে চলতে হবে। আমরা সামান্য একটু বিস্কুট, পানি খেতেও কারখানার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত হই অথচ ঈমান ইসলাম আমাদের কাছে এতই তুচ্ছের যে, তা আমরা ক্যানভাসার ফেরীওয়ালা। হকার থেকে গ্রহণ করতে নির্ভরযোগ্যতার বাধবিচার করি না, ফলে মতবিরোধ আর সংঘাতে দিশেহারা


আজ মুসলিম জাতি। সহজ ইসলাম হয়ে গেছে কঠিন থেকে কঠিনতর। ইসলাম গ্রহণ ও পালন কতইনা

সহজ। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ )لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا، (سورة البقرة (٢٨٦ আল্লাহ তা'য়ালা কারও ওপর তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না।'

এরশাদ হচ্ছে। )۱۳ آمنوا كَمَا أَمَنَ النَّاسُ (سورة النقر ঈমান আনবে তো ঈমানদারের সাথী হও।'

এরশাদ হচ্ছে। 


‎‫ارْكَعُوا مَعَ الرَّكِعِينَ‬‎ ‎‫(سورة البقرة  ;‬‎

নামাযীদের সাথী হও।'

وَكُونُوا مَعَ الصَّدِقِينَ (سورة التوبة (119)  হও।' আসুন জীবনকে সহজ করে দেখি, আল্লাহ আমাদের জন্য জান্নাত সহজ করে দেবেন।

*৯ম দিনঃ


আলোচনা-যাও বা জানি তাও মানিনা, পরিত্রাণের উপায় নেসবাতে আহলুল্লাহ  ( شيّةُ أَهْلِ اللهِ) এবং কারাতে যিকরুল্লাহ (كَثَرَةُ ذِكْرِ اللهِ)

মদ-গাঁজা-হিরোইনখোরেরাও এর ভয়ানক পরিণতি জানে এবং ত্যাগ করতে চায় কিন্তু পারছে না, কারণ যে সকল আত্মিক গুণাবলী থাকলে মানুষ এগুলো বর্জন করতে সক্ষম হয় তা নিস্তেজ থাকলে এবং যে সকল আত্মিক রোগের দরুন মানুষ এগুলো পরিত্যাগ করতে অসমর্থ হয় তা শক্তিশালী থাকার ফলে বারবার ব্যর্থ হয়। পরিত্রাণ পেতে হলে দুটি কাজ করতে হবে।

এক, নেসবাতে আহলুল্লাহ-হক্কানী রব্বানী পীর-মাশায়েখ আলেম-ওলামা কারো সাথে যোগসূত্র রেখে অভিভাবক মেনে চলা। পার্থিব-জীবনে যেমন যোগসূত্রহীন ও অভিভাবকহীন ব্যক্তি উদভ্রান্ত। জারজ হিসাবে আখ্যায়িত হয় অনুরূপভাবে ইসলামী জিন্দেগীর ক্ষেত্রেও ছিন্নমূল পথভ্রষ্ট বলে বিপদগ্রস্তন্ত

হয়। যোগসূত্র রেখে অভিভাবক মেনে চলা ফরয। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন 
  ( وَكُوْلُوا مَعَ الصُّدِقِي‎ ‎‫ ) سورة الشوية  আয়াতের তাফসীরে থানভী রহ. বলেন, এক মুহূর্তের জন্যও যোগসূত্রহীন থাকবে।‬‎ না, প্রয়োজনে নিকটস্থ মসজিদের মুয়াজ্জিনের সাথে যোগসূত্র স্থাপন করে শয়তানের খপ্পর থেকে নিজেকে বাঁচাবে।

দুই, কাসরাতে যিকরুল্লাহ-আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (سورة الناس‎ শয়তান সর্বদা মানুষের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিতে থাকে।' রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন:

‎‫الشَّيْطَانُ جَائِمٌ عَلى قَلْبِ ابْنِ آدَمَ فَإِذَا ذَكَرَ اللهَ خَنَسَ وَإِذَا غَفَلَ وَسْوَسَ - (رواة البخاري)‬‎

'প্রত্যেক মানুষের অন্তরে শয়তান ঘাপটি মেরে বসে থাকে, মনঘাঁটি থেকে শয়তানকে তাড়ানোর কোন ব্যবস্থা মানুষের কাছে নেই তবে সে যখন মাওলার যেকের শুরু করে শয়তান তখন তার থেকে পালিয়ে। যেতে বাধ্য হয়, আবার যখন সে যেকের থেকে গাফেল হয় সাথে সাথে শয়তান তার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে।' শয়তান থেকে বাঁচতে হলে ঈমান রক্ষায় অধিক পরিমাণে যেকের করতে হবে। এ কারণেই। প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট বলতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-

‎‫يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيمًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ। (سورة آل عمران : 

দাঁড়ানো, বসা, শোয়া সর্ব অবস্থায় যেকের করতে হবে।' যারা পীর ছাহেবানের মুরীদ তারা তার নির্দেশনা অনুযায়ী আর যারা মুরীদ নন তারা কুরআন- সুন্নাহর ভিত্তিতে যেভাবে পারেন সেভাবে। যেকের করবেন।

‎‫إن شاء الله এ দুটি কাজে জড়িয়ে থাকলে দিনে দিনে নেকের কাজে স্বাদ শুরু হবে এবং পাপের‬‎ কাজে কষ্ট শুরু হবে, ফলে জানার সাথে সাথে মানা সহজ হয়ে যাবে।

*১০ম দিনঃ


আলোচনা-জানা ছাড়া মানা যায় না, মানতে হলে প্রয়োজন অধিক পরিমাণ যেকের।

ত্রুটিমুক্ত নামায পড়ার চেষ্টা থাকতে হবে আমরণ। নামায তো এমন একটি এবাদত যার। মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দীদার নসীব হয়। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন اقة‎ ‎‫.مِعْرَاجُ الْمُؤْمِنِينَ মুমিনদের জন্য আল্লাহ তা'য়ালার দীদার লাভের মাধ্যম নামায।' যথারীতি নামাযা‬‎ আদায় করলে পার্থিব-জীবন হবে গর্হিত ও অশ্লীলতামুক্ত বেহেশতী জীবন। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- )10( رسورة العنكبوت‎ ca إن الصلوة تنهى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ.‎ তা'য়ালার যেকের থাকবে তার নামায তাঁকে অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে।' নামাযের মাধ্যমে এমন জীবন লাভ ও মি'রাজ হতে হলে কূলবে (হৃদয়ে) আল্লাহর যেকের থাকতে হবে। যেকের করে করে যখন লা-মা'বুদা ইল্লাল্লাহ-এর স্তর থেকে লা-মাহবুবা ইল্লাল্লাহ-এর স্তর অতিক্রম করে লা- মাকসুদা ইল্লাল্লাহ-এর স্তরে মুমিন পৌছে যায়: ইত্যবসরে তার জ্বলবে আল্লাহ তায়ালার যেকের জারী হওয়ায় অন্ধকার হৃদয় আল্লাহর প্রেমের নূরে আলোকিত হয়ে যায়, শয়তান তার হৃদয়ে আশ্রয় নেয়ার যায়গা পায় না, ফলে লা মাওজুদা ইল্লাল্লাহ-এর স্তর লাভ করায় যেকেরকারী যে দিকে তাকায় সর্বত্র আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ দেখতে পায়।


‫نَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِين سورة
 

‎          اللهُ حَاضِرِي اللَّهُ نَاظِرِي اللَّهُ

   ‫     شَاهِدِي اللَّهُ مَعِي            

‬‎

এই ঈমানে এস্তেদলালী-এ'তেকাদী তথা মুখস্ত বিশ্বাসের নিরস ঈমানের স্থলে ঈমানে হালী বাস্তব ঈমান নছীব হয় কেবল যেকেরের দ্বারা। এমন যেকের প্রতি রাকাতেই শুধু মুখে নয় বাস্তবতায় বলে ট্রা

‎‫نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ দা দ্বিপ্রহরের ন্যায় মাওলা যেকেরকারীর নিকট সুস্পষ্ট হয়ে যায়। হরুল‬‎

ইয়াকীন, আইনুল ইয়াকীন তার নসীব হয়। আসুন, আমরা সকল কাজেই কম বেশী সময় দিয়ে থাকি,

যেকেরের জন্যও প্রতিদিন কিছু সময় ব্যয় করি।

*১১তম দিনঃ


আলোচনা-ইসলামের স্বরূপ যদি থাকে জানা, প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও আমলী জিন্দেগী গঠনে

থাকবে না বাধা।

প্রথাগত শিক্ষা, পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন কতটুকুইবা সম্ভব কিংবা কতটুকুইবা সময়-সুযোগ মানুষের জীবনে থাকে? মানুষ সামাজিক জীব, মানুষের সাথে চলা-বলা ওঠা-বসার মধ্য দিয়েই সে প্রভাবিত হয়, সভ্যজীবনের অধিকারী হয়। যদি তার চলা-বলা ওঠা-বসা হয় কামেল মুসলমানের সাথে তবে তার প্রথাগত শিক্ষা পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও বাস্তব জ্ঞান ও অনুশীলনের মাধ্যমে সে কামেল

মুসলমানে পরিণত হয়ে যায়। এ কারণেই আল্লাহর কাছে বারবার আবেদন করতে হصِرَاطَ الَّذِينَ‎ ‎‫- الْعَمْتَ عَلَيْهِمْ আল্লাহ। কামেল মুসলমানের সাথী আমাকে করে দাও।‬‎

সূরায়ে ফাতেহায় যে নেয়ামতপ্রাপ্ত কামেল মুসলিমদের অনুসরণ ও অনুকরণের তাওফীক কামনা করে

দোয়া করা হয়, সে অনুকরণীয় অনুসরণীয় নেয়ামতপ্রাপ্ত কামেল মুসলিমগণ চার শ্রেণীতে বিভক্ত। আল্লাহ

‎‫العم اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصَّدِيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ (سورة‬‎ ‎‫النساء (1) 1 1 21 -১. রাসুলের গণনা, ২. সিদ্দীগণ, ৩.‬‎

কাজেই আম্বিয়ায়ে কেরাম, সাহাবায়ে এযাম, আওলিয়ায়ে কেরাম, আয়েম্মায়ে মুজতাহেদীন, আয়েম্মায়ে তরীকত ও মুজাদ্দেদীন এবং তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈন সকলেই অনুকরণীয় কামেল মুসলিম।

যে সকল মুসলমান কামেল মুসলমানের আকীদা অনুযায়ী আকীদা পোষণ করে এবং নেসবাত তথা যোগসূত্র বজায় রাখে তারা আমলে ফাসেক হলেও ইসলামের সঠিক অনুসারী পথিকদের কাফেলার। অন্তর্ভুক্ত। এই কাফেলা আহলে সুন্নত অল-জামায়াত নামে পরিচিত। এ আহলে সুন্নত অল-


জামায়াতকে বলা হয় হক ফের্কা ও নাজী ফের্কা।

যে সকল মুসলমান কামেল মুসলমানের সাথে যোগসূত্র হারিয়ে তাদের আকীদার বিপরীত কোন একটি আকীদা পোষণ করে তারাই হল বাতিল ফের্কা ও বেদয়াতী ফের্কা। তাফসীরে কবীরীর ৪৭৯ পৃষ্ঠায় লিখিত আছেঃ-

‎‫وَالْمُرَادُ بِالْمُبْتَينِ مَنْ يَعْتَقِدُ شَيْئًا عَلَى خِلَافٍ مَا يَعْتَقِدُهُ أَهْلُ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ‬‎ অর্থাৎ-বাতিল, বেদয়াতী ও ফাসেকুল আকীদা ঐ লোককে বলা হয়, যে আহলে সুন্নত অল- জামায়াতের খেলাফ কোন একটি আকীদা পোষণ করে।

রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেনঃ

‎‫عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إَلَيْهُ عَلَيْهِ‬‎ ‎‫وَسَلَّمَ إِرَفَرَ عَلَيْهِ لَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِنْهُ وَتَتَفَرَّقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِئَةٌ كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّاٌ وَلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّاٌةٌ‬‎

‎‫قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابي اروا الله مدى‬‎

অর্থাৎ-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেছেন, বনী ইসরাঈলগণ ৭২ ফের্কায় বিভক্ত হয়ে পড়েছিল আর আমার উম্মতগণ (উম্মতে মুহম্মদী) ৭৩ ফের্কায় বিভক্ত হয়ে পড়বে। এদের মধ্যে কেবলমাত্র এক ফের্কা ব্যতীত অন্যান্য সকল ফের্কা জাহান্নামী হবে। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন-হে আল্লাহর রসূল। (যে ফের্কা নাজাতপ্রাপ্ত হবে) তারা কারা? আঁ-হযরত সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করলেন-আমি এবং আমার সাহাবীরা যে পথে আছি, সে পথে যারা থাকবে তারাই নাজাতপ্রাপ্ত ফের্কা।

আমাদের একটি কথা অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে যে, বাতিল ফের্কাসমূহের গোমরাহীর কারণ এই নয় যে, তারা কুরআন ও হাদীস মানে না; বরং বেদায়াতী বাতিল ফের্কাসমূহও দাবি করে যে, তাদের
মতাদর্শ কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এখানে আরও একটি বিবেচনার বিষয় এই যে, আল্লাহ এক, রসূল এক এবং কুরআন ও হাদীসও এক; এমতাবস্থায় কেন এত ফের্কা। আমাদের স্মরণ রাখা। প্রয়োজন আওলিয়ায়ে কেরাম, তাবে-তাবেঈন, তাবেঈন, সাহাবায়ে আজমাঈনের অনুসৃত পথে রসূলে। কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর আদর্শে জীবন গঠনের জন্য নেসবাতে আহলুল্লাহ আল্লাহ, অলাদের সাথে যোগসূত্র রক্ষা করা অপরিহার্য। যারা সলফে সালেহীনের সাথে যোগসূত্র রাখে না। ইসলাম পালনে তাদের হয় ইফরাত (চরম), নয় তাফরীত (শিথিল) হয়ে যাবেই যাবে। ফলে তারা। অনিবার্যরূপে সিরাতুল মুস্তাকীম হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং গোমরাহ হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান:

‎‫وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ، (سورة العام ١٥٣)‬‎ অর্থাৎ- (জেনে রেখ।) নিঃসন্দেহে এই দ্বীন-ইসলাম আমার মনোনীত মধ্যপন্থা। অতএব তোমরা এরই অনুসরণ কর, অন্য পথে চল না। কেননা, তাহলে তোমরা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

প্রকৃতপ্রস্তাবে ইসলাম অতি সহজ তবে কামেল মুসলমান তথা আওলিয়ায়ে কেরামের সাথে যখন।

যোগসূত্র হারিয়ে ফেলি তখন সঠিক মানদণ্ড না থাকার কারণে ইফরাত বা তাফরীত, বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ির মধ্যে পড়ে ঘোরপাকে ঈমান হারাতে হয়। এজন্যই হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

‎‫عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُمَا قَالَ حَظٍّ لَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ سَلَّى سَبَلَهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‬‎ ‎‫خَلَّمُ عَلَيْهِ اللَّهِ ثُمَّ خَظَ خُطُوطًا عَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَقَالَ هَذِهِ سُبُلٌ عَلَى كُلِّ سَبِيلٍ مِنْهَا شَيْطَانٌ‬‎

‎‫يَدْعُوا إِلَيْهِ - (رواه أحمد والنسائي والدارمي)‬‎ অর্থাৎ-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, এক সময় হুজুরে পুরনূর সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম একটি সরলরেখা টানলেন এবং এরশাদ করলেন, 'এটা আল্লাহর রাস্তা।' অতঃপর তিনি সরলরেখাটির ডানে ও বামে কতগুলো রেখা টানলেন এবং এরশাদ। করলেন, 'এগুলো (বাতিল ফের্কাসমূহের) বিভিন্ন পথ। এ পথসমূহের প্রত্যেকটি পথে শয়তান উপবিষ্ট রয়েছে এবং মানুষদিগকে ঐ ভ্রান্ত পথের দিকে আহ্বান করছে।' (আহমদ, মাদায়ী ও সারেনী) এ হাদীসের ব্যাখ্যায় মেরকাত শরীফে লিখিত আছে:

‎‫وَفِيهِ إِشَارَةٌ إِلَى أَنَّ سَبِيلَ اللَّهِ وَسَطُ لَيْسَ فِيْهِ تَفْرِيطٌ وَإِفْرَاطَ - بَلْ فِيْهِ التَّوْحِيدُ وَالْتَقَامِةِ‬‎

‎‫وَمُوَاعَاةُ الْجَانِبَيْنِ فِي الْجَادَةِ وَسَبِيْلُ أَهْلِ الْبِدْعِ مَايْلَةٌ إِلَى الْجَوَائِبِ‬‎ অর্থাৎ-উপরোক্ত হাদীসে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাস্তা সিরাতে মুস্তাকীম বা মধ্যপন্থা। এতে ইফরাত ও তাফরীত অর্থাৎ চরম আদর্শবাদ ও শিথিল মতবাদের গুঞ্জায়েশ নাই বরং এতে তাওহীদ (একত্ববাদ) এন্তেকামাত (দৃঢ়তার সাথে মধ্যপন্থা অবলম্বন) এবং ইফরাত ও তাফরীত এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের নিখুঁত ব্যবস্থা রয়েছে। পক্ষান্তরে বাতিল ফের্কাসমূহের পন্থায় নিছক ইফরাত অথবা নিছক তাফরীত বিদ্যমান রয়েছে।
অতএব, যারা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সলফে-সালেহীন ও আওলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত পথ সিরাতে মুস্তাকীম বর্জন করে তারা ইফরাত কিংবা তাফরীতি দৃষ্টিভঙ্গির কারণে গোমরাহ হয়ে যায় এবং ইসলাম হারায়। সুতরাং কোন হক্কানী আলেম পীর-মাশায়েখের সাথে যোগসূত্র রেখে পূর্ণ মুত্তাবে হয়ে চললে আমলী জিন্দেগী গঠনে থাকবে না কোন বাধা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.