Header Ads

Header ADS

বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শিক্ষা


বিশুদ্ধ তেলাওয়াত শিক্ষা

তা'লীমে তাজভীদ


পবিত্র কুরআন মাজীদকে নির্ভুলভাবে তেলাওয়াত করতে চাইলে অবশ্যই ইলমে তাজভীদ শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন। মূলত এটা ইংরেজি গ্রামার কিংবা বাংলা ব্যাকরণ অথবা আরবী ব্যাকরণের মত এতটা ব্যাপক ও কঠিন নয়। এটা অনেক সহজ। এ কারণে আল্লাহ তা'য়ালা
‎‫وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآن الخ - سورة القمر আতরাত‬‎


আমরা আমাদের পুস্তকের মধ্যে সম্পূর্ণ তাজভীদকে কতিপয় সাংকেতিক চিহ্ন দ্বারা সহজে ইহা প্রণয়ন করেছি। যে কোন মানুষ এই সংকেতগুলো দেখে দেখে নির্ভুলভাবে কুরআন পড়তে সক্ষম হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।


কুরআন মাজীদ তেলাওয়াতের বিশেষ তিনটি উপকার


নাম্বার এক, দিলের মরিচা দূর হয় এবং দিল পরিস্কার হয়।
নাম্বার দুই, আল্লাহ তা'য়ালার মুহব্বত বাড়ে এবং নৈকট্য লাভ হয়
নাম্বার তিন, প্রত্যেক হরফে কমপক্ষে দশটি করে নেকী পাওয়া যায়। চাই সে বুঝে পড়ুক অথবা না বুঝে পড়ুক, যারা বলে না বুঝে পড়লে কোন ফায়দা নাই, তাদের কথা ঠিক নয়।


কুরআন শরীফের কুরআন মাজীদ তেলাওয়াতের আদবসমূহ


যথাসাধ্য তা'যীম করবে; কেননা কুরআন শরীফের বে-তা'যীম করা কুফর।
আদবের সহিত বসে কুরআন পড়া।
রেহাল বা তেপায়া ব্যবহার করা।
নাপাক অবস্থায় কুরআন শরীফ স্পর্শ করাতো দূরের কথা, মৌখিক তেলাওয়াত করাও জায়েয নাই। বে-অযু অবস্থায় কুরআন পাক বিনা গেলাফে স্পর্শ করা জায়েয নাই তবে মুখস্থ তেলাওয়াত করা জায়েয আছে।
কুরআন শরীফ শুনায় সওয়াব বেশি।
কুরআন শরীফ মুখস্ত পড়ার চেয়ে দেখে পড়া উত্তম।
স্পষ্ট আওয়াজে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা উত্তম। কুরআন শরীফ নিচে রেখে উপরে বসা অথবা পিছনে রেখে বসা জায়েয নেই।
অপবিত্র স্থানে, গোসলখানায়, আবর্জনা ফেলার স্থানে এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় বসে কুরআন শরীফ তেলাওয়াত করা মাকরূহ।।
তেলাওয়াত আরম্ভের পূর্বে أَعُوذُ بِاللهِ এবং بِسْمِ اللهِ পাঠ করা আবশ্যক।
কুরআন শরীফ তেলাওয়াতের সময় কাউকে সালাম দেয়া জায়েয নাই। সালামের উত্তর দেয়া
জায়েয আছে, তবে না দেয়া উত্তম।
তেলাওয়াতের সময় আযানের উত্তর দেয়া উচিৎ।
উর্ধ্বপক্ষে ৪০ দিনে এবং নিম্নপক্ষে ৩দিনে একবার কুরআন শরীফ খতম করা উত্তম।
সূরায়ে والصفي হতে كاش পর্যন্ত প্রত্যেক সূরা পাঠের পর সার্টটি। পড়া সুন্নাত এবং لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللَّهُ‎ ‎‫أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ.‬‎


কুরআন শরীফ খতমের পর তিনবার সূরায়ে 'ইখলাস' একবার সূরায়ে 'ফালাকু' একবার সূরায়ে 'নাস' এবং একবার সূরায়ে 'ফাতিহা' পাঠ করে সূরায়ে 'বাক্বারার' হতে مُفْلِحُوْنَ পর্যন্ত একবার পাঠ করা সুন্নত।

কুরআন শরীফ খতমের পর ঈসালে ছওয়াব ও মুনাজাত করা মুস্তাহাব।
লাহানে জলী )الحن ح‎

তাজবিদ শিক্ষা 

তাজভীদের খেলাফ স্পষ্ট ও বড় ভুলকে লাহানে জলী বলে। নিম্নলিখিত বিভিন্ন কারণে লাহানে জলী হয়।

১। কোন হরফের মাখরাজ পরিবর্তন করা। যথা- الْحَمْدُ হলে الْهَمْدُ পড়া।
২। কোন হরফের ছিফাতে যাতিয়ার ভুল করা। যথা نَصْرُ اللهِ ছলে نَسْرُ اللَّهِ পড়া।
৩। কোন হরফের হরকত পরিবর্তন করা। যথা- العنتস্থলে এالعপড়া।
৪। কোন হরফ বাড়িয়ে পড়া। যথা- الحمد স্থলে الْحَمْدُ পড়া।
৫। কোন হরফ কমিয়ে পড়া। যথা- وَلَمْ يُولَن স্থলে ولم یکن পড়া।

লাহানে জলী হারাম। এই ধরনের কোন কোন ভুলের কারণে নামায ফাছেদ হয়ে যায়, এমনকি কাফের পর্যন্ত হতে হয়।


কতিপয় মারাত্মক ভুল


ক. নিম্মলিখিত স্থানসমূহে হরকত (যের, যবর, পেশ) পরিবর্তন করলে মারাত্মক ভুল হয়, এমনকি কাফের হবার আশঙ্কা আছে। নিম্নে ইহার কতিপয় উদাহরণ প্রদত্ত হল।

১। ১ম পারা, সূরা ফাতিহা, রুকু ১, আয়াত: ৪ এ স্থলে ঐটা পড়লে।
২ । ১ম পারা, সূরা ফাতিহা, রুকু ১, আয়াত: ৬- এال হলে الْعَمْتُ পড়লে।
৩। ১ম পারা, সূরা বাকারা, রুকু ১৫, আয়াত: ১৩৪- إِبْرَاهِيمَر হলে إِبْرَاهِيمُ رَبَّهُ পড়লে।
৪। ২য় পারা, সূরা বাকারা, রুকু ৩৩, আয়াত: ২৫১ ১৫১ হলে ১৫১ পড়লে।
৫। ৩য় পারা, সূরা বাকারা, রুকু ৩৫, আয়াত: ২৬১- يُضْعِفُ হলে يُضْعَفُ পড়লে।
৬। ৩য় পারা, সূরা আলে ইমরান, রুকু ১, আয়াত: ২- ১f الله لا ছলে الله لا إله পড়লে।
৭। ৬ষ্ঠ পারা, সুরা নিসা, রুকু ২৩, আয়াত: ১৬৫ - مُنْذِرِينَ স্কুলে مُنذرِین পড়লে।
৮। ১০ম পারা, সূরা তওবা, রুকু ১, আয়াত: ৩- মرَسُولُ স্থলে رَسُوله পড়লে।
০৯। ১৫তম পারা, সূরা বনী ইসরাঈল, রুকু ২. আয়াত: ১৫- مُعَذِّبِينَ مُعَلِّبِین‎
১০। ১৬তম পারা, সূরা ত্ব-হা, রুকু ৭, আয়াত: ১২১- أَدَّمُ رَبَّهُ ছলে أَدَم رَبَّهُ পড়লে।
১১। ১৭তম পারা, সূরা আম্বিয়া, রুকু ৬, আয়াত: ৮৭- এکُن স্থলে এ পড়লে।
১২। ১৯তম পারা, সূরা শোয়ারা, রুকু ১১, আয়াত: ১৯৪ مُنْذَرِينَ مُنْذِرِينَ‎ পড়লে।
১৩। ২২তম পারা, সুরা ফাতির, রুকু ৪, আয়াত: ২৮- يَخْشَ اللَّهُ يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمُوا‎ ‎‫مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَم‬‎
১৪। ২২তম পারা, সূরা ফাতির, রুকু ৪. আয়াত: ২৮- يَخْشَ اللَّهُ يَخْشَى اللَّهَ পড়লে।
১৫। ২৩ তম পারা, সূরা ছফাত, রুকু ২. আয়াত: ৭৩ - مُنْذِرِينَ مُنْذَرِينَ পড়লে।
১৬। ২৮তম পারা, সূরা হাশর, রুকু৩, আয়াত: ২৪ الْمُصَوْرُ হলে الْمُصَوَّرُ পড়লে।
১৭। ২৯তম পারা, সূরা হাক্কাহ, রুকু ১, আয়াত: ৩৭- إِلَّا الْخَاطِئَوْنَ إِلَّا الْخَاطِئون পড়লে।
১৮। ২৯তম পারা, সূরা মুযযাম্মিল, রুকু ১. আয়াত: ১৬ فِرْعَوْنَ فِرْعَوْنُ الرَّسُوْلَ‎ ‎‫الرَّسُولُ পড়লে।‬‎
১৯। ২৯তম পারা, সূরা মুরছালাত, রুকু ২, আয়াত: ৪১ - في قللٍ ছলে في قللٍ পড়লে।
২০। ৩০তম পারা, সূরা নাযিয়াত, রুকু ২, আয়াত: ৪৫ مُنْذِرُ হলে مُنْذَرُ পড়লে।

খ. হরফ পরিবর্তিত হওয়ার কারণে এমন মারাত্মক ভুল হয়, যাতে কোন কোন সময় নামায ফাছেদ হয়ে যায়, এমনকি কোন কোন সময় কাফের পর্যন্ত হতে হয়। নিম্নে ইহার কতিপয় উদাহরণ প্রদত্ত হল:

১।৩ স্থলে হলে। যথা- তা হলে ট্রাঙ পড়লে وَمَنْ يَقْنُطْ وَمَنْ يَقْنُتُ পড়লে
‎‫قَانِتِينَ খুলে قَائِطِينَ পড়লে।‬‎
২। ৬ স্থলে ৬ হলে। যথা- حطب স্থলে حتب পড়লে।
৩। ৩ ছলে হলে। যথা- স্থলে পড়লে।
৪। ছলে হলে। যথা- ‎‫وَالْحَرُ الْهَمْدُ الْحَمْدُ হলে وَأَنْهَرْ পড়লে।‬
৫। এ ছলে হলে। যথা- تَفَكَّحُونَ تَفَلَهُون‎ পড়লে।
৬। س ছলে ص হলে। যথা- خَنَّاسُ স্থলে نَّاصُর্ড পড়লে।
৭। ص ছলে من হলে। যথা- نَصْرُ اللهِ হলে نَسْرُ اللهِ পড়লে ووَالشَّيْفْ وَالصَّيْفَ
‎‫لَا الْفِصَامُ পড়লে خَسِیْمًا هِ خَصِيمًا بِهِ لَا الْفِسَامُ পড়লে।‬‎
৮। ض স্থলে ১-১.১ হলে। যথা- مَغْضُوبُ হলে مَغْدُوْبِ مَغْرُوبُ مَغْذُوبُ অথना ‎‫مَغْفُوبُ পড়লে।‬
৯। ظ স্থলে ذز - ج হলে। যথা- عَظِیْمْ হলে - عَزِيمُ اكَ عَجِهُمْ - عَلِيمُ পড়লে।
১০। এ স্থলে এ হলে। যথা- قُلْ هُوَ اللهُ হলে كُلْ هُوَاللَّهُ পড়লে, فَلَا تَقْهَرُ হলে فَلَا تُنْهَرْ পড়লে।

হরকত, তানভীন, ছুকুন এবং তাশদীদ এর পরিচয়


এক যবর, এক যের, এক পেশ কে হরকত বলে।

যবরের উচ্চারণ আ-কার-(1) হয়। যথা- بَ بَ

যেরের উচ্চারণ ই-কার-(1) হয়। যথা- بِ بِ

এ পেশের উচ্চারণ উ-কার-() হয়। যথা-   ِ بُ بُ

‬‎

দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ কে তানভীন বলে।

তানভীনের উচ্চারণ-ন বর্ণে হস্ (ন) হয়। যথা-

বা দুই যবর = বান্

বা দুই যের = বিন্

বা দুই পেশ = বুন্

▲ ছাকিনের উচ্চারণ হস্ হয় যথা- بَنْ+ بِنْ
‬‎

তাশদীদের উচ্চারণ দ্বিত্ব-বর্ণ হয়। যথা بَتْ بَتْ

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.