Header Ads

Header ADS

নামাযের ফরযসমূহের বর্ণনা



নামাযের ফরযসমূহের বর্ণনা

৫ম অধ্যায়


মাসায়েলে নামায


নামাযের ফরযসমূহ থেকে কোন একটি বা একাধিক ফরয ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে বা ভুলে ছুটে গেলে নামায হয় না। ফরযগুলি এই যেঃ- (১) শরীর পাক, (২) কাপড় পাক, (৩) জায়গা পাক, (৪) ছতর ঢাকা, (৫) কেবলামুখি হওয়া, (৬) ওয়াক্ত চেনা, (৭) দাঁড়িয়ে নামায পড়া, (৮) নিয়ত করা, (৯) তাকবীরে তাহরীমা বলা, (১০) ক্বেরাত পড়া, (১১) রুকু করা, (১২) সেজদা করা এবং (১৩) শেষ বৈঠক করা।

নামাযের ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা


নামাযের ওয়াজিবসমূহ থেকে কোন একটি বা একাধিক ওয়াজিব ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে নামায হয় না। তবে, ভুলে ছুটে গেলে এবং সেই নামাযের ভেতরেই স্মরণ হলে সেজদায়ে ছাহু (দুটি সেজদা) করতে হয়। অর্থাৎ শেষ বৈঠকের তাশাহুদ পাঠান্তে ডানদিকে ছালাম ফিরিয়ে নিয়মিত দুটি সেজদা করতঃ পুনরায় তাশাহুদ পড়ে নামায শেষ করতে হয়। আর যদি নামাযের ভেতরে স্মরণই না হয় তাহলে নামায দোহরিয়ে পড়তে হবে। ওয়াজিবগুলি এইঃ- (১) সূরায়ে ফাতেহা পাঠ করা, (২) ফাতেহার সাথে অন্য কোন সূরা মিলানো, (৩) ফরয নামাযের প্রথম দু'রাকাতে সূরা মিলানো, (৪) ইমামের জন্য ফজর, মাগরিব, এশা (জামাতের সঙ্গে হলে) জুমু'য়া ও ঈদের নামাযে ক্বেরাত উচ্চঃস্বরে এবং যোহর ও আছরে ক্বেরাত চুপে চুপে পাঠ করা, (৫) নামাযের ভেতরের ফরয ওয়াজিব কাজগুলির তারতীব (ধারাবাহিকতা) ঠিক রাখা, (৬) রুকু, সেজদা ইত্যাদি ফরয-ওয়াজিব কাজগুলি ধীরস্থীরভাবে আদায় করা, (৭) রুকু, সেজদার ভেতরে এক তাসবিহ পরিমাণ দেরি করা, (৮) প্রথম দু-রাকাতের পরে বসা, (৯) উভয় বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া, (১০) সালাম দ্বারা নামায শেষ করা, (১১) বেতেরের নামাযে দোয়া কুনুত পাঠ করা (১২) দুই ঈদের নামাযে ছয়-ছয় তাকবীর বলা (১৩) রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং (১৪) দুই সেজদার মাঝে সোজা হয়ে বসা।

নামাযের সুন্নতসমূহের বর্ণনা


নামাযের সুন্নতসমূহ থেকে কোন একটি বা একাধিক সুন্নত ইচ্ছা করে ছেড়ে দিলে নামায মাকরূহ হয়ে যায়। তবে ভুলে ছুটে গেলে অবশ্য নামায জায়েজ হয় কিন্তু ছওয়াব কমে যায়। সুন্নতগুলি এইঃ- (১) ফরয নামায আযান একামত দ্বারা আরম্ভ করা, (২) জামায়াত হলে 'হাইয়া আলাচ্ছলাহ' বলার সময় মুক্তাদিগণ দাঁড়িয়ে যাওয়া, (৩) নিয়ত করার তাকবীর, দুই ঈদের তাকবীর ও দোয়ায়ে কুনুতের তাকবীরের সময় পুরুষদের দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত এবং মহিলাদের দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠান, (৪) তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় পুরুষদের হাতের আঙুলগুলি পৃথক এবং মহিলাদের হাতের আঙুলগুলি মিলিয়ে রাখা, (৫) ইমাম তাকবীর জোরে ও মুক্তাদিগণ চুপে-চুপে বলা, (৬) পুরুষদের ডান হাত বাম হাতের ওপরে রেখে নাভী সংলগ্ন নীচে ও মহিলাদের হাত ছিনার ওপর বাঁধা, (৭) চুপে-চুপে ছানা পড়া, (৮) চুপে-চুপে 'আউযুবিল্লাহ ও বিছমিল্লাহ' পড়া, (৯) সূরা ফাতেহার শেষে চুপে-চুপে 'আমিন' বলা, (১০) উঠতে বসতে তাকবীর বলা, (১১) রুকুতে পুরুষগণ দু-হাত দ্বারা হাঁটু ধরা এবং মহিলাদের হাঁটুর ওপরে আঙুলগুলি মিশিয়ে

রাখা, (১২) পুরুষদের হাতের আঙুলগুলি পৃথক করে ও মহিলাদের মিলিয়ে রাখা, (১৩) রুকুতে তাসবীহ পড়া, (১৪) ইমাম সামিআল্লাহু-লিমান হামিদাহ ও মুক্তাদিগণের রব্বানা লাকাল-হাম্দু বলা, (১৫) একা নামায পড়লে উভয়টি বলা, (১৬) সেজদা করার সময় প্রথমে হাঁটু তারপর হাত তারপর নাক তারপর কপাল যমীনে রাখা, (১৭) সেজদায় তাসবীহ পড়া, (১৮) বৈঠকে পুরুষের জন্য ডান পায়ের গোড়ালী খাড়া ও বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসা এবং মহিলাদের জন্য উভয় পা ডানদিকে বের করতঃ বিছানায় বসা, (১৯) বসে রানের ওপর হাত রাখা, (২০) ফরযের শেষ দু-রাকাতে শুধু সূরায়ে ফাতেহা পাঠ করা, (২১) শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছুরা পাঠ করা, (২২) সালামের সময় ডানদিক ও বামদিকে মুখ ফেরানো, (২৩) প্রথম সালাম দ্বারা ডান দিকের ফেরেশতা ও মুক্তাদিগণের জন্য এবং দ্বিতীয় সালাম দ্বারা বাম দিকের ফেরেশতা ও মুক্তাদিগণের জন্য নিয়ত করা এবং (২৪) দ্বিতীয় সালাম প্রথম সালাম থেকে একটু আস্তে বলা।

নামায ভঙ্গ হওয়ার কারণসমূহের বর্ণনা


(১) নামাযে ক্বেরাত লাহানে জলী পড়া, (২) কোন কথা বলা, (৩) সালাম করা, (৪) সালামের জওয়াব দেওয়া, (৫) কোন বস্তু খাওয়া, (৬) কিছু পান করা, (৭) আহ উহ্, শব্দ করা, (৮) বিপদে বা বেদনায় শব্দ করে কেঁদে ওঠা, ৯) শব্দ করে হাসা, (১০) হাঁচির উত্তর দেওয়া, (১১) সুসংবাদ শুনে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলা, (১২) দুঃসংবাদ শুনে 'ইন্নালিল্লাহ' বলা, (১৩) কোন সংবাদের উত্তর দেওয়া, (১৪) ইমামের মুক্তাদি ব্যতীত অন্য লোকের লোকমা গ্রহণ করা (১৫) ইমাম ব্যতীত অন্য কারও ভুল ধরা, (১৬) নামাযে বৃথা কাশি দেওয়া, (১৭) বিচিত্র সংবাদ শুনে 'ডুবহানাল্লাহ' অথবা 'লা-হাওলা' বলা, (১৮) হাঁচি শুনে 'ইয়ারহামুকাল্লাহ' বলা, (১৯) সাংসারিক কোন বিষয়ের প্রার্থনা করা, (২০) নাপাক স্থানে সেজদা করা, (২১) নামাযে কুরআন শরীফ দেখে পড়া, (২২) দু-হাত লাগিয়ে কোন কাজ করা বা বেশী সময় আছ (বেহুদা কাজ) করা, (২৩) এক রোকনে দু'বারের অধিক কোন অঙ্গ চুলকানো, (২৪) কেবলার দিক থেকে ছিনা ঘুরে যাওয়া, (২৫) ইমামের আগে মুক্তাদি খাড়া হওয়া এবং (২৬) ইমামের আগে তাহরীমা বাঁধা অথবা রুকু-

সেজদা ইত্যাদি কোন কাজ করা।

নামায মাকরূহ হওয়ার কারণসমূহের বর্ণনা


(১) অবহেলা করে খালি মাথায় নামায পড়া, (২) মাথায় চাদর দিয়ে অথবা কাঁধের ওপর চাদর রেখে উভয় দিক ছেড়ে দেওয়া বা কোর্তা পরিধান করে আস্তিনের ভেতর হাত না দেওয়া, (৩) কাপড় বা শরীর দ্বারা খেলা করা, (৪) মাটি লাগার ভয়ে কাপড় টেনে লওয়া, (৫) আঙুল ফুটানো, (৬) ঘাড় ফিরিয়ে ডান দিক অথবা বামদিক দেখা, (৭) বিনা প্রয়োজনে সেজদার যায়গা থেকে একবারের অধিক কিছু সরিয়ে দেওয়া, (৮) মোড়ামোড়ি দেওয়া, (৯) বিনা ওযরে উভয় সেজদার মধ্যে বা তাশাহুদের সময় কুকুরের ন্যায় বসা, (১০) সেজদার সময় পুরুষের হাত বিছিয়ে দেওয়া, (১১) আসন পেতে বসা, (১২) ইমাম মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়া, (১৩) নামাযীর সামনে কি পাশে অথবা মাথার ওপর কোন জীবের ছবি থাকা, (১৪) ভাল কাপড় থাকলে নিন্দনীয় কাপড় দ্বারা নামায পড়া, (১৫) নামায পড়া অবস্থায় কপালের ধুলা-বালি মুছে ফেলা, (১৬) আকাশের দিক দেখা, (১৭) পাগড়ীর প্যাচের ওপর সেজদা করা, (১৮) আয়াত বা তাসবীহ গণনা করে পড়া,

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.