পুরুষের নামাযের কাইফিয়াত ও প্রশিক্ষণ ।
পুরুষের নামাযের কাইফিয়াত প্রশিক্ষণ
সোজা দাঁড়ান।
দুই পায়ের গোড়ালী এক বরাবর। করুন।
দুই পায়ের মধ্যে চার আঙুল পরিমাণ সামনে পিছনে একইভাবে ফাঁকা রাখুন।
দৃষ্টি সেজদার যায়গায় রাখুন
তাকবীরে তাহরীমায় হাত উঠান
দুই হাতের বৃদ্ধাঙুলীর গেটে কানের লতি স্পর্শ করুন।
হাতের আঙুলীর মাথাগুলি সামান্য বাঁকিয়ে কেবলামুখী করুন।
হাত বাঁধুন
ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠাভুলী দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরে বাকী
তিনটি আঙুলি বাম হাতের পিঠের উপর সোজাসুজি বিছিয়ে রাখুন।
হাত নাভি সংলগ্ন নীচে বাঁধুন।
পায়ের নলা সোজা রাখুন।
হাঁটুর ওপর হাত রেখে পাঞ্জা দিয়ে হাঁটুর বাটি জড়িয়ে ধরুন।
শরীরের ভর হাত ও হাঁটুতে দিয়ে হাঁটুর পেছনের রগ টান টান হয় এতটুকু সামনে ঝুঁকুন।
হাত সোজা রাখুন।
মাথা পিঠ কোমোর এক বরাবর রাখুন।
দৃষ্টি দুই পায়ের বৃদ্ধাচুলি বরাবর। ফাঁকা যায়গায় রাখুন।
১. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাগীরা প্রত্যেকে দুই পায়ের মধ্যে চার আঙুল পরিমাণ সামনে পিছে একইভাবে ফাঁকা রেখেছে কিনা?
২. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙুলি দ্বারা বাম হাতের। কব্জি ঘরে বাকী তিনটি আঙুল বাম হাতের পিঠের উপর সোজাসুজি বিছিয়ে রেখেছে কিনা?
৩. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে হাত নাভি সংলগ্ন নিচে বেঁধেছে কিনা?
সোজা হন
০১ সোজা হয়ে দাঁড়ান।
উভয় হাত ঝুলিয়ে রাখুন।
প্রথমে হাত হাঁটুর ওপর রাখুন।
তৎপর হাঁটু যমীনের ওপর রাখুন।
উভয় হাতের মধ্যে চেহারা পরিমাণ ফাঁকা রেখে যমীনে হাত রাখুন।
তৎপর নাক যমীনের ওপর রাখুন। তৎপর কপাল যমীনের ওপর রাখুন।
শরীরের ভর দুই হাতে রাখুন।
(৬) সেজদায়
দৃষ্টি নাকের অগ্রভাগে রাখুন।
হাতের আঙুলগুলি মিলিয়ে রাখুন।
পেট যমীন হতে উঁচু করে রাখুন।
উরু সোজা ও খাড়া রাখুন।
অগ্রবাহু মাটি হতে ওপরে রাখুন।
বাহু পাঁজর থেকে দূরে রাখুন।
উরু স্পর্শ না হয় এমনভাবে কনুই রাখুন।
পা দু'টি খাড়া ও পায়ের পাতা পরস্পর মিলিয়ে রাখুন।
প্রথমে কপাল যমীন হতে উঠান।
তৎপর নাক যমীন হতে উঠান।
সোজা দাঁড়ান
তৎপর হাত যমীন হতে উঠান।
তৎপর হাঁটু যমীন হতে উঠান।
তৎপর দাঁড়িয়ে হাত বাঁধুন।
মেরুদন্ড সোজা করে রাখুন।
বাম পায়ে বসে ডান পা খাড়া রাখুন
কেবলামুখী রাখতে চেষ্টা করুন। আঙুলের মাথাগুলি হাতের আঙুলগুলি হাঁটু বরাবর
তাশাহুদে
বসুন
(৯) ছালামের জন্য মুখ ফিরান
রাখুন। মাথা কিঞ্চিৎ ঝুঁকিয়ে রাখুন।
দৃষ্টি কোলের দিকে রাখুন।
ডান দিকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে দৃষ্টি ডান কাঁধের ওপর রাখুন।
এরপর চেহারা কেবলামুখী করুন।
এরপর বাম দিকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে দৃষ্টি বাম কাঁধের ওপর রেখে। হালাম শেষ করুন।
(১০) মাসনুন আমল
ফজর ও আসরে ফরয নামাযের পর এবং যোহর, মাগরীব ও এশার ফরয নামায শেষে সুন্নতের পর মাসনুন আমল করুন।
কাজের বর্ণনা
হাত দু'খানা ছিনা বরাবর উঠান।
হাতের পেট দু'খানা চেহারামুখী
উঠিয়েছে কিনা?
২. মুয়াল্লিমগণ দেখুন নামাগীরা প্রত্যেকে হাতের পেট চেহারামুখী করেছে কিনা?
হাতের ওপরের দিক মিলিয়ে
রাখুন।
হাতের নিচের দিক ফাঁকা রাখুন।
৩. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে দুই হাতের ওপরের দিক মিলিয়ে রেখেছে কিনা?
ধীরে ধীরে দুই হাত মুখমন্ডলের
শেষ পর্যায়
উপর মাসেহ করে মুনাজাত শেষ
পুরুষের নামাযের কাইফিয়াত প্রদর্শন
৪. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে দুই হাতের নিচের দিক ফাঁকা রেখেছে কিনা?
প্রথম খুৎবাহঃ মুয়াল্লিমগণ নিজ নিজ স্থানে দাঁড়িয়ে যান। নামাযীগণ নামাযের সুরাত দেখানোর জন্য প্রস্তুত হন। উপস্থিত মুসলমান ভাইগণ, মুয়াল্লিমগণ ও নামাযীগণ শুনুন। দুনিয়াতে মানুষ যে কোন কাজই করুক না কেন তার প্রত্যেকটি কাজেরই একটা রুল, নিয়ম বা আদব, কায়দা আছে। আপনারা জানেন যে, মা-বাবা, ময়-মুরব্বী, শ্বশুর-শাশুড়ীর সাথে ওঠা-বসা বা চলা-ফেরা করার নিশ্চয়ই একটা আদব-কায়দা আছে। ওস্তাদ, পীর-মোর্শেদ, বুযর্গানে দ্বীনের দরবারে বসা ও তাদের সঙ্গে কথা-বার্তা বলার নিশ্চয়ই একটা আদব-তাযীম আছে। আসামীদের হাকিমের কোর্টে হাজির হয়ে দণ্ডায়মান থাকারও নিশ্চয়ই একটা নিয়ম-কানুন আছে। তাহলে বলুন, যিনি আল্লাহ রব্বুল আলামীন যিনি সকল হাকিমের উর্ধ্বতন হাকিম তার দরবারে হাজির হয়ে ফরিয়াদ করতে কি কোন নিয়ম-কানুন থাকবে না? (সকলেই বলবে নিশ্চয়ই থাকবে)। তাহলে জেনে রাখুন। নামাযের প্রারম্ভ হতে পরিশেষ পর্যন্ত প্রত্যেক নামাযীর কতগুলো কাজ করতে হয়। তন্মধ্যে কোনো কাজ ফরয, কোনো কাজ ওয়াজিব, কোনো কাজ সুন্নত এবং কোনো কাজ মুস্তাহাব ইত্যাদি।
০1. কাতার সোজা করে দাঁড়ান
০2. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে সোজা দাঁড়িয়েছে কি না?
০3. মুয়াল্লিমগণ দেখুন! নামাযীরা প্রত্যেকে দৃষ্টি সেজদার জায়গায় রেখেছে কি না?
. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে দুই পায়ের গোড়ালী এক বরাবর করেছে কি না?
০৪. মুয়াল্লিমগণ দেখুন। নামাযীরা প্রত্যেকে দুই পায়ের মধ্যে চার আঙুল পরিমাণ সামনে পিছনে একইভাবে ফাঁকা রেখেছে কি না?

কোন মন্তব্য নেই