Header Ads

Header ADS

সৃজনশীল চিন্তার ৫টি ধাপ কি কি ?


সৃজনশীল চিন্তার ৫টি ধাপ কি কি ?


আমরা সাধারণত জানি, টেক্সোনমি অনুযায়ী শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীল হয়ে উঠার সক্ষমতা অর্জন করা । এ কাজ সম্পন্ন হতে পারে 5 ধাপে: (১)to evaluate (২) , to apply,(৩) to understand to apply (৪) to analyze, (৫) to remember


আমরা যাকে সৃজনশীল বলছি, সেটা আসলে কতটা সৃজনশীল?


সৃজনশীলতা কী? সৃজনশীলতা মানে নিজে থেকে তৈরি করা বা আবিষ্কার করা। কিন্তু আমরা যাকে সৃজনশীল পদ্ধতি বলছি, আসলে কি সেটা সৃজনশীল? নাকি যারা বই থেকে হুবহু লাইন গুলো তুলে দিচ্ছে তাদের বেশি নাম্বার দিচ্ছি? সৃজনশীল পদ্ধতি বলতে মূলত, মূল পাঠ্য বইয়ে যে বিষয় রয়েছে, সেখান থেকে প্রশ্ন না করে তারই মুল ভাবের আলোকে জ্ঞানমূলক, অনুধাবন মুলক, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা এই ৪ টি ধাপে প্রশ্ন করাকে বোঝায়।

কিন্তু মূল ভাবের বিষয়টায় কতজন শিক্ষার্থী খাপ খাওয়াতে পারে? সৃজনশীল পদ্ধতি কি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুফল বয়ে আনছে? নাকি কুফল বয়ে আনছে? সেটা নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে!


যে কারনে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করা হয় তার মধ্যে একটি হলো- গাইড মুখস্থ না করে মূল বই পড়ে উত্তর করা। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে? বাচ্চারা কি গাইড মুখস্থ করা বন্ধ করেছে? না করেনি! আজ বাস্তবে আমরা দেখছি নোটবই, গাইড বই লুপ্ত তো হয়নি; বরং যে নোটবই ছিল ২৫ ফর্মার, এখন তা হয়েছে ৫০ ফর্মার। সৃজনশীল থাকা সত্ত্বেও বাচ্চারা গাইড থেকে কিছু সাজেশন অনুসরণ করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে! এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দুর্বল শিক্ষার্থীরা। যারা দুর্বল তারা দুর্বলই থেকে যাচ্ছে। আর যারা মেধাবী তারা গাইড অনুসরণ করে জিপিএ ৫ অথবা গোল্ডেন পেয়ে যাচ্ছে!


যারা মোটামুটি লেভেলের শিক্ষার্থী তারা অনেকে ঘটনা বোঝার চেষ্টা করে, কিন্তু যখন পেরে উঠে না, তখন চেষ্টা করা বাদ দিয়ে দিচ্ছে। ক্লাস এইটে পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী সৃজনশীল সম্পর্কে কতটা বোঝে? তাদের চিন্তা ক্ষমতা কতটুকু?
২০১০ সালে বাংলাদেশে ১ম সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয়, কিন্তু এ পর্যন্ত এই পদ্ধতির মূল চেতনাটি শিক্ষার্থীদের হৃদয় স্পর্শ করতে পারেনি! আর পারবেই বা কিভাবে আমরা যেই পদ্ধতিকে সৃজনশীল বলি সেটা কি আসলেই সৃজনশীল? ছোট ছোট বাচ্চারাই বা কিভাবে সৃজনশীল বুঝবে?


যেখানে সৃজনশীল পদ্ধতি সফল বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় সৃজনশীল শিক্ষকের অভাব। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যাঁরা সৃজনশীল শব্দটির সুস্পষ্ট ধারণা ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবনেও সমর্থ নন! যিনি নিজে সৃজনশীল নন, তিনি কীভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বীজ বপন করবেন! আর তাঁদেরই বা কি দোষ তাঁরা যদি ঠিক ঠাক মত প্রশিক্ষণ পেতেন, তাহলে হয়তো প্রয়োগ করতে পারতেন কিন্তু তাঁরা তো নিজেই বুঝে উঠতে পারছেন না, তাঁরা কিভাবে বাচ্চাদের জ্ঞান দিবেন।



সৃজনশীল পরীক্ষাপদ্ধতিতে শিক্ষকের একটি গুরুদায়িত্ব, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা। যথার্থ সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজ। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ শিক্ষকের সৃজনের সামর্থ্যের ঘাটতি থাকায়, অধিকাংশ শিক্ষকই প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করেন 
নোটিএবং গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করে। কেউ আবার কম্পিউটার ফাইলে সংরক্ষিত আগের প্রশ্ন কিছুটা পরিমার্জন ও পরিশোধন করে দায়িত্ব সমাধা করে থাকেন


এ ছাড়া নোট ও গাইড যাঁরা লেখেন, তাঁরাও তো সবাই যথার্থ সৃজনশীল নন। তাই এই পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে সবাই দ্বিধায় ভুগছেন। (মাউশির) ২০১৮ সালের মে মাসের একটি জরিপ অনুযায়ী। ৪ হাজার ৮০১ টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা যায় ২ হাজার ৭৫০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে পারছেন। এ হিসাবে সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরিতে সক্ষম ৫৭ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। বাকি ৪৩ শতাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারছেন না। এর মধ্যে ১ হাজার ২৬১ জন শিক্ষকরা প্রশ্ন প্রণয়নে অন্য বিদ্যালয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। আর বাইরে থেকে প্রশ্ন পত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা নিচ্ছেন ৭৯২ টি বিদ্যালয়ের শিক্ষক।



তবে সৃজনশীল বিষয়ে শিক্ষদের দক্ষতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। গত ২৮ অক্টোবর জাতীয় সংসদে লিখিত প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বিষয়ের শ্রেণী শিক্ষককে সৃজনশীল পদ্ধতিতে দক্ষ করার লক্ষ্যে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইএসডিপি) ও সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের(সেসিপ) অধীনে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।



এছাড়া সৃজনশীল পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষকদের বর্ধিত পরিসরে প্রশিক্ষণের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় সেসিপের প্রোগ্রাম দলিলের বরাদ্দের আওতায় ৩দিনের প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ৬ দিন প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জনকে ১২ দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে মাস্টার ট্রেইনার পুল প্রস্তুত করা হয়েছে। আরো ১ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বিএড প্রশিক্ষণে সৃজনশীল বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে বিষয়টি কোর্স প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.