কালিমা,নামায,রোযা,হজ্ব ও যাকাত
কালিমা নামায রোযা হজ্ব ও যাকাত ।
নামায রোযা হজ্ব যাকাত সবার আগে কলেমা। কলেমা ইসলামের মূল ভিত্তি ও সর্বপ্রথম রোকন। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহ। আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ ফরমানঃ-
مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَن لَّا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ مِنْ قَلْبِهِ إِلَّا حَرَمُ اللهُ لِمٌ)
অর্থাৎ-'যে ব্যক্তি পূর্ণ আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ-এই কলেমার সাক্ষ্য প্রদান করবে,
তার জন্য দোযখের আগুন হারাম হয়ে যাবে।' (মুসলিম) সুতরাং কলেমার তালীমের মাধ্যমে শুরু হবে নামায ও কুরআনুল কারীম শেখার কার্যক্রম।
কলেমার হাকীকতঃ
* ইসলামের মূলমন্ত্র কলেমা।
* ইসলামের মূলভিত্তি কলেমা।
* ইসলামী ইমারতের ভিত্তি-প্রস্তর কলেমা। * ইসলামী জীবন-বৃক্ষের মূলবীজ কলেমা।
* ইসলামী গৃহে প্রবেশ দ্বার কলেমা।
প্রথম কলেমা-কলেমায়ে তাইয়্যেবাঃ
لا إلهَ إِلَّا اللَّهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ।
অর্থঃ আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মা'বুদ নেই মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আল্লাহর রসূল।
দ্বিতীয় কলেমা-কলেমায়ে শাহাদাত:
চোলা
أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো মা'বুদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন ন শরীক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও তাঁর প্রেরিত রসূল।
তৃতীয় কলেমা-কলেমায়ে তাওহীদ:
لا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَاحِدً الَّا ثَانِيَ لَكَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ إِمَامُ الْمُتَّقِينَ رَسُولُ رَبِّ الْعَلَمِينَ
অর্থঃ (হে আল্লাহ।) আপনি ব্যতীত আর কোনো মা'বুদ নেই। আপনি এক ও অদ্বিতীয়। আপনার কোন শরীক বা অংশীদার নেই। অল্লাহর রসূল মুহম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম মুত্তাকীগণের ইমাম (নেতা) এবং রব্বুল আলামীনের রসূল।
চতুর্থ কলেমা-কলেমায়ে তামজীদ:
لَّا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ نُورًا يَهْدِى اللَّهُ لِنُورِهِ مَنْ يَشَاءُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ إِمَامُ الْمُرْسَلِينَ خَاتَمِّينُ.
অর্থঃ (হে আল্লাহ।) আপনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আপনি জ্যোতির্ময়। আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা স্বীয় নূরের দিকে পথ প্রদর্শন করেন। হযরত মুহম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম তামাম নবীগণের ইমাম এবং নবীদের সর্বশেষ নবী।
ঈমানে মুজমালঃ
آمَنْتُ بِاللهِ كَمَا هُوَ بِأَسْمَائِهِ وَصِفَاتِهِ وَقَبِلْتُ جَمِيعَ أَحْكَامِهِ وَأَرْكَانِهِ।
অর্থঃ আমি আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান আনলাম তাঁর নাম ও গুণাবলীসহ এবং তাঁর যাবতীয় হুকুম-আহকাম কবুল করে নিলাম।
ঈমানে মুফাস্সালঃ
امَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْقَدْرِ
خَيْرِهِ وَشَرِّهِ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ.
অর্থঃ আমি ঈমান আনলাম আল্লাহ তায়ালার ওপর, ফেরেশতাগণের ওপর, কিতাবসমূহের ওপর, নবী ও রসূলগণের ওপর, পরকালের ওপর, তকদীরের ভাল-মন্দের ওপর এবং মৃত্যুর পরে পুনর্জীবিত হওয়ার ওপর।
নামাযের ধারাবাহিক মুখস্ত বিষয়ঃ
১। তাওজীহঃ
নামাযের বিছানায় দাঁড়িয়ে পড়ার দোয়া:
إِنِّي وَجْمْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا
وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অর্থ: নিশ্চই আমি অন্যান্য সমস্ত দিক থেকে মন ও মুখ ফিরিয়ে কেবল সেই মহান আল্লাহ তায়ালার দিকে অভিনিবেশ হলাম, যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী পয়দা করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
২। তাকবীরে তাহরীমাহ:
হাত বাঁধার সময় পাঠ করতে হয়।
অর্থ: আল্লাহ সবকিছু থেকে বড় الله أكبر .
৩। ছানাঃ
তাহরীমা বাঁধার পরে সকলকেই অনুচ্চস্বরে নিম্নোক্ত ছানা পাঠ করতে হয়।
سُبْحَانَكَ اللَّهُ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدَكَ وَلَا
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। আপনার নাম অতি বরকতময়, আপনার সম্মান ও গৌরব অতি উচ্চ এবং আপনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই।
৪। তায়াউযঃ
একাকী নামায আদায়কারী এবং ইমামকে ছানা পাঠের পরে অনুচ্চস্বরে তায়াউয় পাঠ করতে হয়।
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَنِ الرَّحِيمِ।
অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহ তায়ালার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৫। তাসমিয়াহঃ
একাকী নামায আদায়কারী এবং ইমামকে সূরা ফাতেহা পাঠের পূর্বে ও অন্য কোন সূরা পাঠের পূর্বে তাসমিয়াহ পাঠ করতে হয়।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
অর্থঃ আমি পরম করুণাময় ও দয়ালু দাতা আল্লাহ তায়ালার নামে আরম্ভ করছি।
৬। সূরা ফাতেহা
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ الرَّحْمنِ الرَّحِيرِ مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ نَسْتَعِينُ نَسْتَهُ الْدِيْرِ رَاة الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ، أَمِينَ
অর্থঃ ১. যাবতীয় প্রশংসা বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার জন্য। ২. যিনি করুণাময় ও পরম দয়ালু। ৩. যিনি বিচার দিবসের সর্বময় কর্তা। ৪. (হে আল্লাহ!) আমরা আপনারই এবাদত করি এবং আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি। ৫. (হে আল্লাহ!) আপনি আমাদিগকে সৎপথে পরিচালিত করুন। ৬. ঐ সকলের পথে পরিচালিত করুন, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। ৭. যাদের প্রতি আপনি রাগান্বিত হয়েছেন এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, তাদের পথে আমাদের চালাবেন না। আমীন।
৭। সূরা কাওছার
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
إِنَّا أَعْطَيْكَ الْكَوْفَرَنْ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَزْنْ إِنْ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرَهُ
অর্থঃ (১) হে মুহম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম। অবশ্যই আমি আপনাকে (বেহেশতের হাওজে) কাওছার দান করেছি, (২) অতএব আপনি স্বীয় প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানী করুন। (৩) নিশ্চয়ই আপনার শত্রুগণই (যারা আপনাকে 'আবতার' বলিয়া নিন্দা করে) প্রকৃত প্রস্তাবে নাম চিহ্নবিহীন হবে।

কোন মন্তব্য নেই