কুরআন শিক্ষার আবশ্যকতা,শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।
১২টি আলোচনাঃ-
*১ম দিন-
আলোচনা- কুরআন শিক্ষার আবশ্যকতা, শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।
আল্লাহ তা'য়ালা এরশাদ করেন :وريَّلِ القُرآن ترتيلا (سورة المزمل ছহীহ-শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে কুরআন শরীফ পাঠ করুন। ছহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করা ফরয। যে ব্যক্তি তাজভীদের সাথে কুরআন শরীফ পাঠ করে না, সে পাপী গুনাহগার। (ইমাম ইবনুল জবরী হয়।
রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন- ধর্মে; خَيْرٌ كُمْ مَنْ تَعْلَمَ الْقُرْآنَ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি যে নিজে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু
আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন:
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرٍ أَمْثَالِهَا لَا أَقُولُ الْمَ حَرْفٌ وَلَفٌ أَقُولُ الْمَ حَرْفٌ وَلْفٌ فٌ
وَمِيمٌ حَرْفٌ رواه الله ملوان অর্থাৎঃ যে আল্লাহ তায়ালার কিতাব কুরআন শরীফ থেকে একটি হরফ পাঠ করবে সে একটি নেকী
পাবে এবং প্রত্যেকটি নেকী দশটি নেকীর সমান হবে। আমি বলি না যে, মে। একটি হরফ বরং ওয়া
একটি হরফ, ১১ একটি হরফ এবং একটি হরফ। (তিরমিযী শরীফ)
كُلُّهُمْ قَدْ وَجَبَتْ لَهُ النَّارُ - الرواة القرمون
অর্থাৎ: যে কুরআন শরীফ পাঠ করবে এবং তার হালালকে হালাল জেনে এবং হারামকে হারাম জেনে তদনুযায়ী আমল করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন এবং তাঁর বংশের এমন দশজন লোকের জন্য সুপারিশ কবুল করবেন: যারা দোযখের জন্য উপযুক্ত হয়েছিল। (তিরমিজী শরীফ)
রসূলুল্লাহু অসাল্লাম এরদঃ مَنْ قَرَأُ الْقُرْآنَ وَعَمِلَ بِمَا فِيهِ الْبِسَ وَالِدَاهُ تَاجًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ الْقِيَامَةِ ضَوْمَ ِ فَمَا قَنَّكُمْ
بِالَّذِي عَمِلَ بِهَذَا - و او)
অর্থাৎঃ যে ব্যক্তি কুরআন শরীফ পাঠ করবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে, তার মাতাপিতাকে
কিয়ামতের দিন এমন একটি উজ্জ্বল তাজ পরিধান করানো হবে যার উজ্জ্বলতা সূর্যের উজ্জ্বলতার চেয়েও অধিক হবে। কুরআন শরীফ পাঠকারী ও তদনুযায়ী আমলকারীর মর্যাদা কত উচ্চ হবে তোমরা ভেবে দেখ। (আবু দাউদ শরীফ)
পবিত্র কুরআন মজীদ শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে কুরআন হল (লুফুফী) যা মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে উচ্চারণের ভঙ্গি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
অপর হাদীসে এসেছে কুরআন মজীদ (ছাময়ী) যা কানে শুনে শ্রবণ করার মাধ্যমে শিখতে হবে। কারণ এ কুরআন মনগড়া পড়লে গুনাহগার হতে হবে। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেনঃ
(1) مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِوَائِهِ فَقَدْ أَخْطَأَوَ إِنْ أَصَابَ الومني
(۲) وَفِي رِوَايَةٍ مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَائِهِ وَأَصَابَ فَقَدْ أَخْطا درمدي যেভাবে যোগসূত্র ছাড়া ঈমান ইসলামের দাবিদার হওয়া যায় না অনুরূপ কারো ক্ষমতা নেই শুনা ব্যতীত সঠিক উচ্চারণে কুরআন পড়তে পারা। তাই কুরআন শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।
*২য় দিনঃ
আলোচনা-কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে নামায পড়তে প্রয়োজন যোগসূত্র ৪-
وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ (سورة البقرة (١٣)
হয়ে।
রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেছেন صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أصلى অর্থাৎ তোমরা নামায পড় সেভাবে যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো। নবীজীকে দেখে সাহাবায়ে কেরাম, তাদের দেখে তাবেঈন, তাবেঈনদের দেখে তাবে-তাবেঈন, এভাবে অদ্য পর্যন্ত যাদের নামায নবীজী পর্যন্ত যোগসূত্র ধরে হবে সেই নামাযই সঠিক নামায। পুঁথিগত বিদ্যা নির্ভর নামায ও যোগসূত্রহীন নামায যথাযথ হওয়ার নিশ্চয়তা কে দেবে? এমন নামায হয় বাড়াবাড়ি নয় ছাড়াছাড়ি (ইফরাত, তাফরীত) হবেই হবে। একইভাবে নামাযের অন্যতম বিষয় হল ক্বেরাত পাঠ যথেচ্ছা ক্বেরাত পাঠ করলে হবে না; তা হতে হবে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সাত ক্বারীর সাথে যোগসূত্র রেখে। সাত ক্বারীর সাথে যোগসূত্রহীন ক্বেরাত যেমন গ্রহণযোগ্য নয় তেমনি যোগসূত্রহীন নামাযও। মনগড়া এবাদতে পরিণত হয় বলে মাওলার কাছে অগ্রহনীয়। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম বলেনঃ زَيْنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ অর্থাৎ তোমরা তোমাদের সুমিষ্ট সুর দ্বারা কুরআন সু-সজ্জিত কর, অপর বর্ণনায় এসেছে : رَبَّ قَارِي لِلْقُرْآنِ وَالْقُرْآنُ يَلْعَنْهُ কুরআন পাঠকদের মধ্যে অনেকের অবস্থা এই যে, তাজভীদের বিপরীত পড়ার কারণে কুরআন তাদের প্রতি লা'নত করে, ধৈর্যের সাথে চেষ্টাকারী ان شاء لله। গ্রহণযোগ্য নামায ও তেলাওয়াতের অনুশীলন করে পার পেয়ে যাবে পরকালে।
*৩য় দিনঃ
আলোচনা-যোগসূত্র হারালে, বিরোধ সংঘাত অনিবার্য।
আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ
(১) أَطِيعُوا اللهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ سورة النساء (৫২)
(২) الْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ (سورة الالاء ١٩)
আয়াতদ্বয় থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন ও আওলিয়ায়ে কেরাম তথা আহলে সুন্নত অল-জামায়াতের অনুসৃত পথে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর আদর্শ রীতি-নীতি অনুকরণ করা ব্যতিরেকে ইসলামের অনুসারী হওয়া যায় না। যোগসূত্রহীন ব্যক্তি যদি পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা-প্রসূত জ্ঞান দিয়ে কুরআন-সুন্নাহ বুঝাতে চায় তা ইসলামের নামে মনগড়া উক্তিতে পরিণত হয়।
এই শ্রেণীর লোকেরা তাদের মনগড়া ভ্রান্ত ধ্যান-ধারণাকে কুরআন-হাদীস দিয়ে সঠিক সাব্যস্ত করতে গিয়ে ওলামা-মাশায়েখ, আওলিয়ায়ে কেরাম সলফে-সালেহীনের অনুসৃত পথকে ভুল ধারণা। করে এবং বিরোধ ও সংঘাতে লিপ্ত হয়। যখন আমরা আল্লাহ তা'য়ালার মনোনীত তার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নবী, ছিদ্দীক, শহীদ ও ওলী বা তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈন-এর সাথে যোগসূত্র হারাই তখন বিরোধ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া স্বাভাবিক। উদাহরণ স্বরূপ, কোন বস্তু প্রদর্শন করে যদি দর্শকের কাছে জানতে চাওয়া হয় এর ওজন কত তাহলে পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা দিয়ে এক একজনে এক এক ধরনের মত দেবে এটাই স্বাভাবিক, মতবিরোধের এক পর্যায়ে নিজস্ব মতকে প্রতিষ্ঠা করতে বাহুবল, পেশীশক্তি প্রয়োগ করতে গিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হবে। তবে যদি সরকার-স্বীকৃত মানদণ্ড, বাটখাড়া দিয়ে বস্তুটির সঠিক পরিমাপ নির্ণয় করা হয়, তখন বিশ্বের কোথাও মতবিরোধের সুযোগ থাকে না। কে কে মত প্রকাশে কতটুকু ইফরাত-তাফরীত বা বাড়াবাড়ি, ছাড়াছাড়ি করেছে তা সুস্পষ্ট হওয়ায়। সঠিক মতের অনুসারীদের স্বীয় বিশ্বাসে দৃঢ় থাকা সহজ হয়। আল্লাহ যাদের প্রতি সহায় হন তাদের জন্য দ্বীনের প্রতিটি কাজ সহজ থেকে সহজতর হয়ে যায়।
*৪র্থ দিনঃ
আলোচনা-সাবধান। যোগসূত্রহীন মুসলমান ইসলামের বিকৃতি ঘটায়।
বর্তমানে বিভিন্ন প্রকার বাতিল ফের্কার আবির্ভাব হয়েছে। এসব বাতিল বেদয়াতীরা সলফে- সালেহীন, আওলিয়ায়ে কেরাম তথা আহলে সুন্নত অল-জামায়াতের অনুসৃত পথ বর্জন করার ফলে ইসলামের সঠিকপথ হারিয়ে ফেলেছে, ফলে ইসলামের নাম নিয়ে তারা হয় বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ি, ইফরাত বা তাফরীতপন্থী হচ্ছে। তাদের দ্বারা দ্বীন রক্ষার পরিবর্তে জোরেশোরে তাহরীফে দ্বীন অর্থাৎ দ্বীনের বিকৃতি সাধন ঘটছে।
এই তাহরীফে দ্বীন ২ প্রকার-যথাঃ
১। তাহরীফে লফযী )تخرین لفظ( তথা কুরআন-হাদীসের শব্দ পরিবর্তন, এটা নিঃসন্দেহে কুফরী।
২। তাহরীফে মা'নবী )تحریک مغلوی( তথা কুরআন-হাদীসের ভাবগত পরিবর্তন ঘটানো অর্থাৎ কুরআন-হাদীস পড়বে ও শাব্দিক তরজমা (অনুবাদ) করবে ঠিক তবে এর দ্বারা যা বুঝাবে তা হবে মনগড়া উক্তি। এ ধরনের তাহরীফের (পরিবর্তনের) কারণে আহলে সুন্নত অল-জামায়াত থেকে খারিজ হতে হয় এবং হাদীসে বর্ণিত বাতিল ফের্কায় পরিগণিত হয়ে জাহান্নামী হতে হয়। খারেজী, মুতাজেলা, বর্তমান যমানার ওহাবী, কাদিয়ানী, বাহায়ী বা এ ধরনের আকীদা পোষণকারীরা সকলেই দাবি করে যে, তাদের মতাদর্শ কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে সাহাবায়ে এজাম, সলফে সালেহীন আওলিয়ায়ে কেরামের অনুসৃত পথে রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর আদর্শে
জীবন গড়ার জন্য যে যোগসূত্র প্রয়োজন তা না থাকার কারণ তারা কুরআন-হাদীস দিয়ে যা বলে তা হয় তাহরীফে মানবী, মনগড়া উক্তি। উদাহরণ স্বরূপ পথভ্রষ্ট খারেজীদের কথাই ধরুন, রসূলে কারীম স্যাল্লাহ আলাইহি অসাল্লাম এর এস্কেকালের ৩০ বছর যেতে না যেতে খারেজীরা কুরআন-হাদীসের দলীল দিয়ে যে অভিনব আকীদা সমাজে ছড়ালো তা তাদের পূর্বে কেউ বলেনি।
পথভ্রান্ত মুতাযিলারা যা বলল-রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর এন্তেকালের পর তাদের পূর্বে ১০০ বছরের মধ্যে কেউ বলেনি। এভাবে অন্যান্য বাতিল ফের্কা এবং নামে-বেনামে তাদের আকীদা পোষণকারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। হে আল্লাহ। আপনি আমাদেরকে সিরাতে মুস্তাকীম এর ওপর পরিচালিত করুন।
*৫ম দিনঃ
আলোচনা-যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সীরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হওয়ায় ইত্তেবায়ে সুন্নাহ পারেনা, ফলে
ইসলাম হারায়।
যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সীরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হয় বিধায় তার নামায-রোযা বেশভূষা সবই থাকে তবে তা এত্তেবায়ে সুন্নাহ না হয়ে এত্তেবায়ে হাওয়া বা প্রবৃত্তির অনুকরণ হয়। ফলে ইসলাম হারায়।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, হুজুরে পুরনূর। সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম একটি সরলরেখা টানলেন এবং এরশাদ করলেন, 'এটা আল্লাহর রাস্তা।' অতঃপর তিনি সরলরেখাটির ডানে ও বামে কতগুলো রেখা টানলেন এবং এরশাদ করলেন, 'এগুলো (বাতিল ফের্কাসমূহের) বিভিন্ন পথ। এ পথসমূহের প্রত্যেকটি পথে শয়তান উপবিষ্ট রয়েছে এবং মানুষযদিগকে ঐ ভান্ত পথের দিকে আহ্বান করছে।' আহমদ, নাসায়ী ও দারেমী।
এ হাদীসের ব্যাখ্যায় হযরত মোল্লা আলী ক্বারী রহ. মেরকাত শরীফে উল্লেখ করেনঃ-উক্ত হাদীসের দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হল যে, আল্লাহর রাস্তা সিরাতে মুস্তাকীম বা মধ্যপন্থা; এতে ইফরাত ও তাফরীত অর্থাৎ চরম আদর্শবাদ ও শিথিল মতবাদের গুঞ্জায়েশ নাই বরং এতে তাওহীদ (একত্ববাদ) এন্তেকামাত (দৃঢ়তার সাথে মধ্যপন্থা অবলম্বন) এবং ইফরাত ও তাফরীত-এর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের নিখুঁত ব্যবস্থা রয়েছে। পক্ষান্তরে বাতিল ফের্কাসমূহের পন্থায় নিছক ইফরাত অথবা নিছক তাফরীত বিদ্যমান রয়েছে।
কোনকিছু সঠিক বেঠিক বুঝতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দৃষ্টান্ত, মানদণ্ড। তাইতো আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তার প্রিয়ভাজন মানুষ কেমন হবে তার দৃষ্টান্ত হিসাবে নবীদেরকে। পাঠালেন। নবীজীর নমুনায় যারা জীবন গড়লেন সেই সাহাবায়ে কেরাম হলেন নবীজীর অবর্তমানে ইসলামের দৃষ্টান্ত। সাহাবায়ে এযামের অবর্তমানে তাবেঈনে কেরাম, তাবেঈনে কেরামের অবর্তমানে তাবে-তাবেঈন, এভাবে যতদিন আওলিয়ায়ে কেরামের এ ধারা থাকবে-ততদিন ইসলাম থাকবে। এ কারণে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত
হাদীসের ব্যাখ্যায় মেরকাত শরীফে এসেছে।
رَيْبَ أَنَّهُمْ هُمْ أَهْلُ السُّلَةِ وَالْجَمَاعَةِ. فَلَا شَكَ وَلا
অর্থাৎ-এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, উপরোক্ত হাদীসে উল্লেখিত নাজী ও বেহেশতী ফের্কা হল-আহলে সুন্নত অল-জামায়াত।
আওলিয়ায়ে কেরাম, তাবে-তাবেঈন, তাবেঈন, সাহাবায়ে এযাম এবং তাদের পূর্ণ মুত্তাবেঈনদের অনুসৃত পথে যারা চলবে তারাই এত্তেবায়ে সুন্নাহ তথা রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর জীবন-আদর্শে প্রকৃত ইসলামের অধিকারী হবে।
*৬ষ্ঠ দিনঃ
আলোচনা-রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, এ জীবন জীবন নয়।
এ জীবন জীবন নয়। পারলৌকিক জীবনই প্রকৃত জীবন। যারা মনে করে পার্থিব- জীবনই সবকিছু, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সব শেষ হয়ে যাবে। তারা মস্তবড় ভুলের মধ্যে আছে। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ ফরমান:
وَمَا هُذِهِ الْحَيُوةُ الدُّنْيا إِلَّا لَهُمْ وَلَعِبٌ وَإِنَّ الدار الآخرة لهي الْحَيَوَانُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ . المليون ) দুনিয়ায় চলাচলের ব্যাপারে রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নির্দেশনাঃ
كُنْ فِي الدُّنْيَا كَانَكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ وَعَنْ نَفْسَكَ فِي أَهْلِ الْقُبُورِ. মূলতঃ একজন প্রকৃত ঈমানদার কখনো দুনিয়াকে প্রাধান্য দিতে পারে না। কারণ তারা মনে-
প্রাণে বিশ্বাস করে-এ জীবন জীবন নয়, এ জীবন ক্ষণস্থায়ী; পারলৌকিক জীবনই চিরস্থায়ী। পার্থিব এ জীবন তো মাত্র ক'দিনের। এখন জীবন আছে, সুস্থতা আছে, পরকালের জন্য হাশরের জন্য এখনই কিছু করে নাও। একদিন এমন সময় আসবে যখন এই সময়ের মূল্য বুঝে আসবে: তবে কোন ফল হবে না। মৃত্যুর পর কবরে গিয়ে আর কিছুই করতে পারবে না। কবর তো এমনই ভয়াবহ স্থান, মৃতপাপী-কফীন বহনকারীদেরকে এই বলে চিৎকার করতে থাকে 'তোমরা যদি আমার গন্তব্যের কথা জানতে তাহলে আদৌ আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে না।' কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত হাজার-হাজার বছর ঐ কবরে কাটাতে হবে। একবার মাত্র কলেমায়ে শাহাদাত পাঠ করতে চাইবে, তাও অনুমতি পাবে না। এই পার্থিব জীবন হলো মূলধনের মত। যার মূলধন আছে সে সবই পারে। কিন্তু মূলধন ফুরিয়ে যাওয়ার পর আর ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। সুতরাং হে নির্বোধ অলস মানুষ। এখনও সময় আছে রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, যা অর্জন করার করে নিন। নবীজির সুন্নত-ই বেহেশত লাভের একমাত্র উপায়।
*৭ম দিনঃ
আলোচনা-পথিক ধরে নামায পড়ুন, পথিক ছাড়লে পথ হারালে জাহান্নাম।
রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন-- صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُون أصلي
অর্থাৎ- নামায পড় সেভাবে, যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো।
আমরা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম-এর নামায দেখিনি, দেখেছেন সাহাবায়ে কেরাম। তাদের অনুসরণ করেছেন তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সলফে সালেহীন, আয়েম্মায়ে মুজতাহিদীন,
আয়েম্মায়ে তরীকত ও আওলিয়ায়ে কেরাম। অতএব, তাদের কারো অনুসরণ করে সেই নামায় শিখে নিতে হবে।
এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন ارْ كَعُوا مَعَ الرَّكِعِينَ - سورة; রুকু-সেজদা তথা সঠিক নামায পড়তে হলে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, এই পথের পথিক নামাযীদের সাথী হও।
লক্ষ লক্ষ বছর আত্মার জগত অতিবাহিত করেছি। এখন ক্ষণিকের এই পার্থিব জগত অতিক্রম করে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত কবর-জগতে থাকতে হবে। এরপর জীবনপথের মোহনা কিয়ামতের ময়দানে সমবেত হতে হবে। ইউটিউব, ফেইসবুক, পুঁথিগত বিদ্যার গৌরব ও আত্মগরিমায় যদি পথিক ধরার আবশ্যকতা উপেক্ষা করি তাহলে পথিকহারা পথ-ভোলার জাহান্নাম ছাড়া গত্যান্তর থাকবে না

নাইচ
উত্তরমুছুননাইচ
উত্তরমুছুনNice
উত্তরমুছুন