ইছলাহী পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ ও নামায শিক্ষা
ইছলাহী পদ্ধতিতে কুরআন শরীফ ও নামায শিক্ষা
بسم الله الرحمن الرحيمة
১ম অধ্যায়
নামায ও কুরআন শেখার আহ্বান এবং ৬টি মাসয়ালা
সম্মানিত ধর্মপ্রাণ ভাইয়েরা।
সঠিকভাবে নামায পড়া, নামাযের মুখস্ত বিষয়সমূহ বিশুদ্ধভাবে পড়তে পারা এবং সূরা- ক্বেরাত তথা কুরআন তেলাওয়াত কত যে সহজ বুঝতে পারলে আমরা কেহই তা শিখতে অবহেলা করতাম না। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآن الخ. (سورة القمر (১৭)
আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি সুতরাং আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলের জন্য এ কুরআন শেখা সহজ। কুরআন যেমন শুনে শুনে শেখা যায়, নামায তেমন নামাযিদের সাথি হয়ে দেখে দেখে শেখা যায়।
রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এরশাদ করেন- صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أَصلى অর্থাৎ তোমরা নামায পড় সেভাবে যেভাবে আমাকে পড়তে দেখছো। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন- وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاعِينَ (سورة البقرة (١٣) রুকুকারীদের সাথী হও।
রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম এর নামায যেমন ছিলো, আপনার নামায তেমন হোক, আপনার সূরা ক্বেরাত তথা কুরআন তেলাওয়াত এবং নামাযের মুখস্ত বিষয় সমূহ পঠন হোক বিশুদ্ধ। এ লক্ষে হযরত নেছারাবাদী হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফোরকানিয়া বোর্ড নেছারাবাদ, ঝালকাঠি গ্রহণ করেছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রসংগত জরুরী কয়েকটি মাসয়ালা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
৬টি মাসয়ালা
মাসয়ালা-১: নামায আদায় করতে কুরআন শরীফ যতটুকু মুখস্ত করতে হয় সে পরিমাণ ছহীহ শুদ্ধভাবে
মুখস্ত করা প্রত্যেকের ওপর ফরয। (ফতোয়ায়ে শামী)
মাসয়ালা-২: সকল ফোকাহা একমত, যাদের তেলাওয়াত অশুদ্ধ তাদের তেলাওয়াত শুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এমনকি প্রয়োজনে আজীবন চেষ্টা করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত চেষ্টা করতে থাকবে ততদিন পর্যন্ত তাদের নামায শুদ্ধ হবে। আর যখন চেষ্টা ছেড়ে দেবে তখন আর তাদের কোন নামায হবে না। এমনকি যতদিন তেলাওয়াত অশুদ্ধ থাকবে ততদিন পর্যন্ত তার পক্ষে ইমামতী জায়েয হবে না।
(ফতোয়ায়ে শামী, আলমগীরী, হণীরী, কবিরী, ফতোয়ায়ে বাজ্জাজিয়া, ফতোয়ায়ে কাজীখান, ফতোয়ায়ে সিরাজিয়া প্রভৃতি ফিকাহ গ্রন্থ)
মাসয়ালা-৩: ক্বেরাত শুদ্ধের চেষ্টা ত্যাগকারীগণ দুনিয়াতে তিন শ্রেণীর। ১. ইচ্ছাপূর্বক চেষ্টা হতে বিরত থাকা। ২. গাফেল উদাসীন। ৩. পূর্ণ চেষ্টার পরেও অক্ষম হওয়া। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী সম্বন্ধে ওলামায়ে মোতাকাদ্দেমীন ও ওলামায়ে মোতায়াখেরীনের কেউ তাদের নামায শুদ্ধ। হবে বলে এযাযত দেন না। তবে হ্যাঁ-তৃতীয় শ্রেণী যারা চেষ্টার পরেও অক্ষম হয়ে গেছেন। তাদের সম্বন্ধে মোতায়াখেরীনের থেকে কেউ কেউ নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ওযর সাব্যস্ত করেছেন, কাজেই তারা মায়ুর এবং মায়ূরের মাসয়ালা হল এই যে, যে ব্যক্তি এক হরফ বা এক কালিমার মাথুর তার নামায দুই হরফ বা দুই কালিমার মায়ূরের পিছনে নামাযের একতেদা জায়েয হবে না। (ফতোয়ায়ে শামী। ১ম খণ্ড)
কাজেই প্রত্যেক মুছল্লীর নিজ নিজ ওযরমুক্ত হরফ জেনে নেওয়া যেরূপ একান্ত কর্তব্য তদ্রূপ যাদের সঙ্গে প্রায়ই জামাতে নামায পড়ে থাকেন সে সকল মুছল্লীগণকেও ঐ ওযরের কথা জানিয়ে দেওয়া একান্ত কর্তব্য।
মাসয়ালা-৪: যদি কাউকে পবিত্র কুরআন মজীদের ভেতর বড় বড় ভুল (পূর্ণ র্প) পড়তে শুনা যায় তাহলে তাকে অবহিত করা ওয়াজিব। কিন্তু যদি এরূপ একটা প্রবল ধারণা হয় যে অবহিত করতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি হবে তাহলে এড়িয়ে যাওয়া জায়েয।
(কারী খান। ১ম খণ্ড এবং কিতাবুত্ব তিনইয়ান ফী আসবে হামলাতিল কুরআন)
মাসয়ালা-৫: পবিত্র কুরআন শরীফ ছাময়ী ও লুফুফী তথা শ্রবণ ও ঠোঁটের এলেম। অর্থাৎ কোন নির্ভরযোগ্য তেলাওয়াতকারীর উচ্চারণ-ভঙ্গি দেখে দেখে এবং শুনে শুনে শেখার বিষয়। কারো ক্ষমতা নেই যে, উচ্চারণ-ভঙ্গি দর্শন, শ্রবণ, মশক ও তেলাওয়াত ব্যতীত সঠিকভাবে কুরআন পড়তে পারে; যেমন কারো ক্ষমতা নেই যে, পুঁথিগত বিদ্যা ও ধারণা- প্রসূত জ্ঞান দ্বারা (অবিকল নকল ব্যতীত) ইচ্ছামত কুরআনের তাফসীর করতে পারে। এই কারণে নির্ভরযোগ্য ওস্তাদের মৌখিক অনুমতি নেওয়া ব্যতীত পবিত্র কুরআন পড়া অপরাধ, যদিও পড়া সঠিকভাবে হয়ে থাকে। (শরবে যুক্তগদ্যমায়ে জাজরিয়। রসূলে কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি مَنْ قَالَ فِي الْقُرْآنِ بِرَائِهِ فَقَدْ أَخْطَأْ وَإِنْ أَصَابَ الرملي 1-GPS 4 RC যারা নিজ ইচ্ছামত কুরআন শরীফ বলে (তেলাওয়াত করে) তাদের বলা শুদ্ধ হলেও অপরাধ।
ক্বেরাত অশুদ্ধ হলে অপরাধ হবে আর ক্বেরাত শুদ্ধ হলে অপরাধ হবে না, হাদীসের ভাষ্য এমন নয় বরং ওস্তাদ থেকে ক্বেরাত অর্জন না করে নিজ ইচ্ছামত ক্বেরাত পড়া যে অপরাধ। হাদীসে তাই ঘোষিত হয়েছে।
মাসয়ালা-৬: নামায যেমন ফরয, নামায আদায় হয় এতটুকু কুরআন তাজভীদসহ মুখস্ত করাও ফরয, তা কুরআন-হাদীসের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই যে ব্যক্তি শুদ্ধ তেলাওয়াতের ফরযিয়াতকে এনকার করে সে কাফের, সে ভীষণ ক্ষতির মধ্যে নিপতিত।
(আল্লামা কালানবী রহ.)
আপনি বয়ো-বৃদ্ধ কিংবা জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত অথবা মহাব্যস্ত, প্রচুর সময় দিতে পারছেন না কোন সমস্যা নয়: মাত্র ২৫ দিন ১ ঘন্টা করে সময় দিন, সঠিকভাবে নামায আদায় এবং বিশুদ্ধ কুরআন তেলাওয়াত শিক্ষা করা খুবই সহজ। আপনাদের খেদমতে আমরা থাকব- إِنْ شَاء الله
পরিশেষে সময় ও তারিখ নির্ধারণ করে নেবেন।
মুয়াল্লিম নির্দেশিকা ও রুটিন
ইছলাহী পদ্ধতি
একজন মুয়াল্লিম মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের জন্য যে নির্দেশিকা ও রুটিন মেনে চললে শিক্ষার্থী সঠিকভাবে নামায, বিশুদ্ধভাবে ক্বেরাত শিক্ষা গ্রহণ এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহ জানতে সক্ষম হবে, তারই ধারাবাহিকতায় এই রুটিন প্রণয়ন করা হয়েছে। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে তা উপস্থাপন কর হলো:-
৩০ দিনব্যাপী তাদরীবুল কুরআন কোর্সের দৈনন্দিন রুটিন: কার্যদিবস ২৫ দিন
*১ম দিনঃ
১. উদ্বোধনী আলোচনা: কুরআন শিক্ষার আবশ্যকতা শিখতে হবে যোগসূত্র ধরে।
২. কাইফিয়াতে সালাত ১ম থেকে শেষ পর্যন্ত।
৩. মশক: তাওজীহ ও ছানা।
৪. দোয়া-মুনাজাত।
* ২য় দিনঃ
১. আলোচনাঃ কুরআন সুন্নাহর ভিত্তিতে নামায পড়তে প্রয়োজন যোগসূত্র।
২. কাইফিয়াতে সালাত: দাঁড়ানোর প্রশিক্ষণ।
৩. মশক: সূরায়ে ফাতেহা।
৪. হুরুফ মশকঃ ا ب ت ث - ৪টি।
৫. মাসয়ালা: নামাযে ফরয ১৩টি।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
* ৩য় দিনঃ
১. আলোচনা : যোগসূত্র হারালে বিরোধ-সংঘাত অনিবার্য।
২. কাইফিয়াতে সালাত: রুকুর প্রশিক্ষণ।
৩. মঞ্চ: সূরায়ে এখলাছ।
৪. হুরুফ মশকঃ ج ح خ টি।
৫. মাসয়ালা: নামাযের ওয়াজিব সমূহের বর্ণনা।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
*৪র্থ দিনঃ
১. আলোচনাঃ সাবধান। যোগসূত্রহীন মুসলমান ইসলামের বিকৃতি ঘটায়।
২. কাইফিয়াতে সালাত। সেজদার প্রশিক্ষণ।
৩. মশক: সূরায়ে কাওছার।
৪. হুরুফ মশকঃ دذرز - ৪টি।
৫. মাসয়ালা: নামাযের ওয়াজিব সমূহের পুনঃআলোচনা।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
*৫ম দিনঃ
১. আলোচনা ঃ যোগসূত্রহীন ব্যক্তি সিরাতে মুস্তাকীম হতে বিচ্যুত হওয়ায় ইত্তেবায়ে সুন্নাহ পারে না, ফলে ইসলাম হারায়।
২. কাইফিয়াতে সালাত: বৈঠকের প্রশিক্ষণ।
৩. মশকঃ তাশাহুদ التَّجِيَّاث
৪. হুরুফমশকঃ : س ش - ২টি।
৫. মাসয়ালা: নামাযের সুন্নত সমূহের বর্ণনা।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
* ৬ষ্ঠ দিনঃ
১. আলোচনা: রসূলের সুন্নত আঁকড়ে ধরুন, এ জীবন জীবন নয়।
কাইফিয়াতে সালাত: সালাম ফিরানো ও মুনাজাত।
৩. মশকঃ দরূদ শরীফ।
৪. হুরুফ মশক: - ৪ টি ص ض ط ظ
৫. মাসয়ালা: এক নজরে নামাযের সুন্নত।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
*৭ম দিনঃ
১. আলোচনা: পথিক ধরে নামায পড়ুন, পথিক ছাড়লে পথ হারালে জাহান্নাম।
২. কাইফিয়াতে সালাত: পরীক্ষা গ্রহণ।
৩. মল্ক: দোয়ায়ে মাছুরাহ।
৪. হুরুফ মশকঃ - ع غ ২টি।
৫. মাসয়ালা : নামায ভঙ্গের কারণ।
৬. দোয়া-মুনাজাত।
*৮ম দিনঃ
১. আলোচনাঃ নামায পড়ুন, তেলাওয়াত করুন, যোগসূত্র রেখে প্রতি নামাযের প্রতি রাকাতে اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ الْعَمْتَ عَلَيْهِمْ - -মনে প্রাণে দোয়া করুন

ফাইন
উত্তরমুছুনঅনেক সুন্দর
উত্তরমুছুন